Tuesday , June 25 2024
Home / Exclusive / ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ধারনের পেছনে ছিলেন আভিনেতা আবুল খায়ের

৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ধারনের পেছনে ছিলেন আভিনেতা আবুল খায়ের

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর( Bangabandhu Sheikh Mujibur ) রহমানের বজ্র অয়াজের ঘোষণায় দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশের সকল অসহায়,নির্যাতিত, অবহেলিত বাঙালিরা। সেই ঘটনার ছেচল্লিশ বছর পর এই ভাষণটি বিশ্ব ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের একটি প্রামাণিক দলিল হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি আজ ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারের একটি অংশবিশেষ।

ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা যায়নি। যতটা সম্ভব করা হয়েছে, ব্যাপকভাবে প্রচার বা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ভাষণটি ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচারের কথা থাকলেও পাকিস্তান সরকারের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি। এর চিত্রগ্রহণও ব্যাহত হয়। বিজ্ঞাপন ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ধরনের বক্তৃতা ধরার কোনো প্রযুক্তি ছিল না।

যা ছিল তা বেশ ভারী এবং আয়তনে সমৃদ্ধ। যাইহোক, সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এএইচএম সালাহউদ্দিন( AHM Salahuddin ) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবুল( M Abul ) খায়ের এমএনএ বক্তৃতা রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। এম আবুল( M Abul ) খায়েরের এমএনএ তৎকালীন ফরিদপুর-৫ আসন [বর্তমানে গোপালগঞ্জ-১] থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেন অভিনেতা আবুল খায়ের। তিনি তখন সরকারের চলচ্চিত্র বিভাগের একজন ডিএফপি কর্মকর্তার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ মুভিং ক্যামেরা বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান এনএইচ খন্দকার।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সময় এম আবুল( M Abul ) খায়ের এমএনএর তত্ত্বাবধানে টেকনিশিয়ান এনএইচ খন্দকার মঞ্চের নিচ থেকে ভাষণের অডিও রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে মঞ্চের একপাশ থেকে চলন্ত ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন অভিনেতা আবুল খায়ের। তখনকার ক্যামেরাগুলো বেশ বড় হওয়ায় আবুল খায়েরের একার পক্ষে সেগুলো সরানো খুবই কঠিন ছিল। তিনি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে যতটা সম্ভব ধরেছিলেন। আর সেই কারণেই আমরা ৭ই মার্চ ১০ মিনিটের একটি ভিডিও দেখতে পাচ্ছি৷ অন্যদিকে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে বেতার কর্মীরা ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করতে না পারলেও রেকর্ডটি সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হন, যা বাংলা বেতার কর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন রেডিওতে সম্প্রচার করা হয়। বিশিষ্ট নজরুল শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এম আবুল( M Abul )( Anam Shakil M Abul ) খায়েরের ছেলে তিনি বলেন,পাকিস্তান সরকারের হস্তক্ষেপ করা স্বাভাবিক।

তাই বাবা রেকর্ডিং ডিভাইসটি মঞ্চের নিচে লুকানো জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন, যাতে কেউ দেখতে না পারে। আমার বাবা মরহুম এম আবুল( M Abul ) খায়ের এমএনএ এবং প্রয়াত অভিনেতা আবুল খায়ের দুই বন্ধু ছিলেন। আমার বাবার একটা রেকর্ড কোম্পানি ছিল – ঢাকা রেকর্ডস। ফলস্বরূপ, তিনি অডিও রেকর্ডিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন, অন্যদিকে অভিনেতা আবুল খায়ের, যিনি ভাল ক্যামেরা জ্ঞান ছিলেন, ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ। ৭ মার্চের ১০ দিন পর রেকর্ডটি তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তৎকালীন পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য এমএনএ আবুল খায়ের অডিওটির একটি কপি তাঁর হাতে তুলে দেন। তিনি যুদ্ধের সময় ভাষণের কিছু রেকর্ডকৃত কপি নিয়ে ভারতে ভ্রমণ করেন, যেখান থেকে রেকর্ড কোম্পানি এইচএমভির উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভাষণের ৩০০০ কপি বিতরণ করা হয়। মুজিবনগর সরকারের সিদ্ধান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ভাষণ বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য,বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এবং প্রকাশনা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী খান একটি জনপ্রিয় গনমাধ্যমকে বলেন ডিএফপি ক্যামেরার মাধ্যমেই জাতির জনকের এই ঐতিহাসিক যুদ্ধের অনুপ্রেরনা জাগানো ভাষনের রেকর্ডটি ধারন করা হয়েছে। এটি নাগরা রেকর্ডারে সাহাজ্যে ধারণ করা হয়েছিল, এটি একটি খুব ব্যয়বহুল এবং উচ্চ মানের রেকর্ডার ছিল। এটি বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠের শক্তিকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এটি খুব নিখুঁতভাবে ছোট নোট রেকর্ড করতে পারে বলে গনমাধ্যম কর্মীদের জানান লিয়াকত আলী খান( Liaquat Ali Khan )।

About Syful Islam

Check Also

হাত ঘুরে ৩-৪ বার সৌদি আরবে বিক্রি হচ্ছেন বাংলাদেশি নারী শ্রমিক, যারা করছে এই কাজ

সৌদি আরবে তিন-চারবার বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি নারী শ্রমিক।এজেন্সি থেকে কফিল, কফিল থেকে আবারও স্থানীয় বাসিন্দা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *