Saturday , June 15 2024
Home / Countrywide / সখীপুরে বিবাহ বিচ্ছেদে রেকর্ড করলো স্ত্রীরা

সখীপুরে বিবাহ বিচ্ছেদে রেকর্ড করলো স্ত্রীরা

বিশ্বের কোনো নারীই কখনো সামান্য কারনকে উদ্দেশ্য করে ডিভোর্স চায় না। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা অসহনীয় হয়ে পড়লেই এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হয়ে থাকে। সখীপুর উপজেলা বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার কাজী শফিউল ইসলাম বাদল ( Kazi Shafiul Islam Badal ) গনমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাল্যবিবাহ, স্বামীর বিদেশে থাকা, ব্যভিচারসহ নানা জটিলতার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনার মাত্রার উর্ধগত  দিন দিন বাড়ছে
তাছাড়া সখীপুরে ( Sakhipur ) ৯০ শতাংশ তালাক দিচ্ছেন স্ত্রীরা এমনটাই গনমাধ্যম কর্মীদর বর্ননা দেন।

টাঙ্গাইলের সখীপুর ( Sakhipur Tangail ) উপজেলায় তালাকের সংখ্যা বাড়ছে। গত  এক বছরে তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ৫৭৮টি। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে বাল্যবিবাহ, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর উদাসীনতা, ব্যভিচার, নারীর প্রতিবাদী রূপ, নারী শিক্ষা, স্বামীর অনৈতিক কার্যকলাপ, স্বামীর দীর্ঘ প্রবাসে থাকা, শাশুড়ির নির্যাতন, যৌতুকের জন্য ক্রমাগত  চাপ, স্বামীর নির্যাতন। পৌরসভা সহ মোট ১২ টি কাজী অফিস রয়েছে।

কাজী অফিসের নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালে  কাকরাজান ( Kakrajan ) ইউনিয়নে ৬৩টি, বহেরাতৈল ( Baheratail ) ইউনিয়নে ৬৯টি, গজারিয়া ইউনিয়নে ২৮টি, যাদবপুর ( Jadavpur ) ইউনিয়নে ৪৪টি, হাতীবান্ধা ( Hatibandha ) ইউনিয়নে ৪৪টি, কালিয়া ইউনিয়নে ১২০টি, দারিয়াপুর ( Dariapur ) ইউনিয়নে ৩৫টি এবং বহুরিয়া ইউনিয়নে ২১টি, পৌরসভার চারটি কার্যালয়ে ১৫৪টি ডিভোর্স তালিকাভুক্ত হয়েছে। সখীপুর উপজেলা বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার অন্যতম কাজী শফিউল ইসলাম জানান, ২০২১ সালে  উপজেলায় বিয়ে হয়েছে ৮৩৩টি এবং তালাকের সংখ্যা ৫৭৮টি।

এর মধ্যে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর কাছে ১৭টি, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর কাছে ২৯৭টি এবং সন্তানদের পারস্পরিক সম্মতিতে ২৬৪টি তালাক নিবন্ধন করা হয়েছে। উপজেলার ১২টি কাজী অফিসে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সমিতির তথ্যমতে, ২০২০ সালে  উপজেলায় ৬৫৬টি বিয়ে হয়েছে। আর ৪৭৬টি বিচ্ছেদ হয়েছে। শফিউল ইসলাম আরও জানান, বাল্যবিবাহ, স্বামীর বিদেশে থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের নানা জটিলতার কারণে প্রথমে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে তা বিচ্ছেদে রূপ নিচ্ছে। গত  বছর উপজেলায় তালাকের ৯০ শতাংশই হয়েছে স্ত্রীদের দ্বারা।

শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায় তখনই এই কাজটি করতে বাধ্য হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফিরোজা আক্তার ( Firoza Akhter ) জনপ্রিয় একটি গনমাধ্যমকে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন আগের মতো নেই। নারীরা পুরুষের অত্যাচার সহ্য করে সংসার করেছে। এখন মেয়েরা সচেতন, শিক্ষিত এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় তাদের মর্যাদা বেড়েছে। এ কারণে মেয়েরা আর নির্যাতন সইতে চায় না। তারা আর মুখ বন্ধ রাখে না। এ কারণে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্র শিকারী বলেন,তালাক কমাতে হলে আগে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া অসময়ে বিয়ে, যৌতুক, স্বামীর দীর্ঘদিনের নির্বাসন, স্বামীর অত্যাচার ডিভোর্সের অন্যতম কারণ।

উল্লেখ্য, একটি মেয়ের বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় স্বামীকে প্রবাস জীবনে ফিরে যেতে হয়। তাদের বিয়ের সময় শর্ত ছিল স্ত্রীকে লেখাপড়া করতে দিতে হবে। স্বামী বিদেশে থাকলেও নিয়মিত কথা হতো তাদের ভিতরে। হঠাৎ একদিন স্বামী কোনো কারণ ছাড়াই স্ত্রীকে জানায় সে আর পড়াশোনা করবে না। মেয়েটির মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল, মুহূর্তেই তার স্বপ্ন মলিন হয়ে গেল। শর্মিলী ( Sharmili ) (ছদ্মনাম) কোন অবস্থাতেই পড়াশোনা বন্ধ না করার পণ করে স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেলে। তবে তার সংসার টেকেনি তার পড়াশোনার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে। এমন ভাবেই খুটি নাটি তুচ্ছ ব্যাপারকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে,বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ। টাঙ্গাইলের সখীপুর ( Sakhipur Tangail ) উপজেলার একটি গ্রামের বেশ কিছুদিন আগে এমনই একটা ঘটনার বিবৃতি এলাকাবাসী গনমাধ্যম কর্মীদের দিয়েছিলেন।

 

 

About Syful Islam

Check Also

মসজিদের ইমামের কোনো দোষ নেই, জবির সেই আলোচিত ছাত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মো. ছালাহ উদ্দিনকে এক ছাত্রীকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার জের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *