Saturday , June 15 2024
Home / Countrywide / পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া টাকায় ভাঙলো রেকর্ড, জানা গেল টাকার পরিমান (ভিডিও)

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া টাকায় ভাঙলো রেকর্ড, জানা গেল টাকার পরিমান (ভিডিও)

ধর্মপ্রাণ মানুষ মনের আশা পূরন করতে সবার অগোচরে দান-সদকা করে থাকেন। তাদের বিশ্বাস মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাতে দান করলে সৃষ্টিকর্তা সবার মনের আশা পূরন করেন। এবার এই রকম দানের টাকায় রেকর্ড পরিমান অর্থ পাওয়া গেল কিশোরগঞ্জের ( Kishoreganj ) ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে। মসজিদের আটটি দানবাক্সে ৩ কোটি ৮ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এই টাকার পরিমান অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ-রৌপের গয়না ও বিদেশী মূদ্রা পাওয়া যায় দানবাক্সে।

গত ( Past )কাল অর্থাৎ শনিবার (১২ মার্চ )রাত সোয়া নয়টার দিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মোহাম্মদ শামীম আলম ( Mohammad Shamim Alam ) জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জ দেশের একটি অন্যতম গনমাধ্যকে এ তথ্য জানান।

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা ( Narsunda ) নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটিতে নতুন তিনটিসহ মোট আটটি লোহার দানবাক্স রয়েছে। টানা তিন মাস অন্তর এই বাক্সগুলো খোলার রেওয়াজ।

তবে বিশ্বব্যপী চলমান পরিস্থিতিতে চার মাস ছয় দিন পর শনিবার (১২ মার্চ ) সকাল সাড়ে ৯টায় দান বাক্সগুলো খোলা হয়। বরাবরের মতো এসব বাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি স্বর্ণ-রুপাও রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৭ নভেম্বর এসব দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৩ কোটি ৬ লাখ ১৬ হাজার ৫৬৫ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে সোনা-রূপার অলংকারও পাওয়া যায়।

জনশ্রুতি আছে, কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল ( Rakhuail ) এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা ( Narsunda ) নদীর মাঝখানে একটি উঁচু ঢিবির মধ্যে এক সময় একজন আধ্যাত্মিক পাগল ভক্ত বাস করতেন।

এবার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা

হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ ঐ সাধকের আবাসে যাতায়াত করতেন। ওই পাগল সাধকের ইন্তেকালের পর এলাকাবাসী তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগ’ল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে।

কিন্তু সেই সাধকের ইন্তেকালের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা থেকে এমনকি দেশ-বিদেশের মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে। এই মসজিদে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষেরা মানত করলে বা দান করলে তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণ হয় এই বিশ্বাস নিয়ে এই মসজিদে আসেন।

তিনি নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি দান করেন। বিশেষ করে ঢল নামক বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ যারা প্রতি শুক্রবার ( Friday ) এই মসজিদে মানত করে থাকেন।

এখানে আসা অধিকাংশ মুসল্লি এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এই ইতিহাস আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো বলে জানা গেছে।

এবার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা

বিপুল আর্থিক সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মসজিদ কমপ্লেক্স ( Mosque complex ), মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নের পাশাপাশি অসহায়, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা এমনকি দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করা হয়।

মসজিদ কমপ্লেক্স ( Mosque complex )ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম শওকত আলম দেশের অন্যতম একটি গনমাধ্যমকে বলেন, খরচ বাদে বাকি টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে।

পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স ( Mosque complex ) ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম বলেন, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মসজিদ কমপ্লেক্স ( Mosque complex ) আরও আকর্ষণীয় হবে।

প্রসঙ্গত ( Past ), মসজিদসহ সকল প্রতিষ্ঠানে মানুষ যে অর্থ দান করেন তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, এ্টাই সাধারন মানুষের চাওয়া। মসজিদ মাদ্রাসাসহ সকল প্রতিষ্ঠানে মানুষ যা দান করে সেটা জনকল্যানের জন্য করে থাকেন। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা দান সাদকা করেন অগোচরে তাদের মনের বাসনা পূরন হবে এমন প্রত্যশা করে। তবে এক শ্রেনীর মানুষ তাদের দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন যা কারো কাম্য নয়।

About bisso Jit

Check Also

মসজিদের ইমামের কোনো দোষ নেই, জবির সেই আলোচিত ছাত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মো. ছালাহ উদ্দিনকে এক ছাত্রীকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার জের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *