Saturday , June 15 2024
Home / Countrywide / ঘুষ নিয়েও ব্যর্থ হলেন ওসি, প্রকাশ্যে টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও

ঘুষ নিয়েও ব্যর্থ হলেন ওসি, প্রকাশ্যে টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও

গত  বছরের এপ্রিল ( April ) মাসের দিকে গাইবান্ধায় ( Gaibandha ) ব্যবসায়ীকে খু /নের মামলায়, আসামিপক্ষের কাছ থেকে, ৭ লক্ষ ২০হাজার টাকা ঘুষ নেন পুলিশ কর্মকর্তা। ঘুষ নেওয়ার প্রধান কারণটি ছিল মামলার চার্জশিট থেকে আসামিদের নাম বাদ দেওয়া। আসামি পরিবার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে টাকা দিলেও মামলার চাজশীট থেকে আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি। আসামি পক্ষের পরিবারকে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আসামীদের মামলা যাতে খুব তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হয়, সেই অনুযায়ী মামলা চার্জশিটে কিছু ধারা উল্লেখ করে দিচ্ছি, যাতে কয়েক মাসের ভিতরে বেরিয়ে যেতে পারে। তখনি পুলিশ কর্মকর্তাও আসামিপক্ষের পরিবারের ভিতরে ফোনালাপে টাকা লেনদেন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের অডিও ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গত  বছরের ১০ এপ্রিল ( April ) গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ নেতা ও দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা ( Masood Rana )র বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী হাসান আলীর ( Hasan Ali ) নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রয়াতের স্ত্রী বিথী বেগম ( Bithi Begum ) বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় মাসুদ রানা ( Masood Rana ), জুতা ব্যবসায়ী রুমেল হক ( Rumel Haque ) ও নগরীর স্টেশন রোডের খলিলুর রহমানকে ( Khalilur Rahman ) আসামি করে মামলাটি করেন। খলিলুর জামিনে এবং রোমেল পলাতক। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন গাইবান্ধা সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন্স) সিরাজুল ইসলাম। ( Sirajul Islam. ) পরে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ( DB Police ) তৎকালীন ওসি ও বর্তমানে সুন্দরগঞ্জের ( Sundarganj ) কঞ্চিবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মানস রঞ্জন দাস ( Manas Ranjan Das ) দায়িত্ব নেন। সর্বশেষ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ( DB Police ) ওসি মো.  তৌহিদুজ্জামান।

তদন্ত কর্মকর্তা মো.  চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মাসুদ রানা ( Masood Rana ) ও খলিলুর রহমানের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৌহিদুজ্জামান। ১৮ জানুয়ারি তিনি সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন। পরে সংশোধিত চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। গাইবান্ধা কোর্ট পুলিশ ( Gaibandha Court Police ) গত  ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অভিযোগপত্রটি সংশোধনের জন্য বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠায়। গত  ৮ মার্চ ( March ) মাসুদ রানা ( Masood Rana )সহ তিন অভিযুক্তকে আসামি করে আদালতে সংশোধিত চার্জশিট দাখিল করা হয়। অভিযুক্তের স্বজনরা ওসি তৌহিদুজ্জামানের সঙ্গে পাঁচ দফায় প্রায় ১৬ মিনিট ফোনে কথা বলেন। এর কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

 

আসামীর স্বজনঃ স্যার, আগে যে টাকা দিয়েছিলাম তার দরকার নেই। পরে আমি সাত লাখ টাকা দিয়েছিলাম, তিনি পুরো টাকা পরিশোধ করেন।
ওসি: আমি আপনাকে যা ভেবেছিলাম, আপনি আপনার চেহারা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করেছেন। সম্পূর্ণভাবে একজন আসামির জন্য নেওয়া হয়েছে। একজন আসামিকে বাদ দিয়ে… মূল ধারাকে বাদ দেওয়ার কথা। এই চাবিকাঠি. আমি তার (মাসুদ রানার) নামে ছয়টি এবং তোমাগো নামে দেব দুইটা। তিন-চার তারিখে মুক্তি পাবে। যদি না হয়, তবে আমার কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে নিয়েন, ঠিক আছে? আপনার আমানত আমার নিকট আছে।

অভিযুক্তের স্বজন: তিনি দুই আসামির নাম বাদ দেবেন বলে জানিয়েছেন। নাম না রাখার জন্য টাকা দিয়েছি। সেই নাম আছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হয়নি। কথা রাখতেন না। আমরা বড় আইনজীবী দিয়ে বুঝি। ধারা ৩৯২ তে এটি ডাকা তি। প্রথমে তিনি বলেন, দুজনের নাম থাকবে না। তখন সে বলে একটা নাম হবে। এখন সে আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। বলেছিলেন, কাজ না হলে টাকা ফেরত দাও, টাকা ফেরত দাও।

ওসি: তাহলে ধারাধুরা যা আছে সব দেব। তবে আগেরটা নিয়েছি, তোমাকে বিরক্ত করব না, পরেরটা নিয়ে যাও।

আসামিদের স্বজন: টাকা তুলে দিয়েছি। তিনি বললেন, আপনি একদিন আমাদের টাকা দেবেন। আপনি সব ধারা দেন, ৫১১টি ধারা সব দেন। আমার লোকেরা জেলে যেতে রাজি। টাকা ফেরত দেন।

ওসি: আপনি পুরো বিষয়টি রেকর্ড করার জন্য ফোন করেছেন। তুমি হাতে টাকা দাও, তুমি এসে টাকা নিয়ে যাও।

অভিযুক্তের স্বজন: আমি রেকর্ড করতে ফোন করিনি স্যার। আমি যদি রেকর্ড করতাম, আমি এটি আগে করতে পারতাম। বাড়ির লোকজন বলছে, টাকা না পেলে এসপি, ডিআইজি, আইজি সব স্যারের কাছে যাবে। মিডিয়াতে যাবে।

ওসি: এই লোক, আমাকে কী ভয় দেখাচ্ছেন, আপনার লাভ কি?

আসামিদের স্বজন: কাজ না হলে টাকা ফেরত দেবেন বলে বলছেন। আমরা আপনাকে সাত দিনের মধ্যে অর্থ প্রদান করেছি। এখন দুদিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।

ওসি: অবশ্যই দেব ফেরত। টাকা ভেঙে ভেঙে দেব।

আসামীর স্বজনঃ স্যার, আগে যে টাকা দিয়েছিলাম তার (১ লাখ ২০ হাজার) দরকার নেই। এখন পরে সাত লাখ টাকা দিয়েছি, পুরোটাই চাই। মহিলা, বোঝেনই তো।

ওসি: তাহলে ধারাধুরা যা আছে সব দেব। ঠিক আছে, নাও। আমার যা আছে তাই দিয়েছি। তবে অফিসিয়াল দিন আসবে রবিবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে।

দুই আসামি রুমেল ও খলিলুরের স্বজনরা তদন্ত কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামানের কাছে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার দাবি করেন। কিন্তু অভিযোগপত্রে প্রথমে একজন এবং পরে দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মামলার কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি তৌহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ কথা বলেনি।

এছাড়া মামলায় আসামির নাম বাদ দেওয়া বা ধারা কমানোর কোনো কথা বলা হয়নি।

নগরীর স্টেশন রোডের জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী বহিষ্কৃত উপ-সচিব মাসুদ রানার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। গইবান্ধা ব্যবসায়ী হাসান আলী মে /রে ফেলার মোটা অংকের টাকা নিয়েও ঘটনার মামলার চার্জশিট থেকে দুই আসামির নাম বাদ না দেওয়ার অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে টাকা ফেরত চেয়ে কথোপকথনের অডিও। সেই কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ফোনালাপের অডিওতে আসামিদের স্বজনদের বলতে শোনা যায়, মামলাটি দুর্বল করার জন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে কম শা”স্তিমূলক অভিযোগ আনা এবং আসামির তালিকা থেকে দুজনের নাম বাদ দেওয়ার কথা। তবে দুই কিস্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৬ লাখ টাকা ফেরত দাবি করছেন আসামিদের স্বজনরা।

প্রসঙ্গত, যাদের দায়িত্ব ছিল আইন কে রক্ষা করার, তারাই আইনকে কুলুষিত করার পর্যায়ে নিয়ে গেছে। উপরের তথ্যমতে, এটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তেমন কোনো আইনি প্রক্রিয়া, খবরটি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত দেখা যায়নি। জনগণ বিপ/’দে পড়ে যাদের কাছে যাবেন, মাঝেমধ্যে তারাই এখন আসামিপক্ষ নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি বাহি নীর সদস্য হয়ে, সরকারি নিয়ন্ত্রিত মুঠোফোন নেটওয়ার্কিং এ নির্ভয়ে, ঘুষ লেনদেনের ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলেছেন।

About bisso Jit

Check Also

মসজিদের ইমামের কোনো দোষ নেই, জবির সেই আলোচিত ছাত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মো. ছালাহ উদ্দিনকে এক ছাত্রীকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার জের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *