Friday , April 19 2024
Breaking News
Home / Countrywide / তদন্ত কমিটির সামনে কাঁদলেন চূল কামিয়ে দেওয়া ১৪ শিক্ষার্থী

তদন্ত কমিটির সামনে কাঁদলেন চূল কামিয়ে দেওয়া ১৪ শিক্ষার্থী

সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্রের চুল কামিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর ভুক্তভোগী যারা রয়েছেন সেই সাথে আরো প্রায় অর্ধ শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পাঁচ সদস্যে বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। এ দিকে, অভিযুক্ত এবং পদত্যাগ করা শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন যিনি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, তাকে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে তার বক্তব্য দেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি মানসিক এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সেখানে হাজির হয়নি।

রোববার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে সা’ক্ষ্য গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, রোববার (৩ অক্টোবর) ১৪ জন নি’/র্যা’/তিত ছাত্র তদন্ত কমিটিতে এসে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। ১৩ জন সরাসরি তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয় এবং একজন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ার কারনে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রয়েছেন তাই তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে তার বক্তব্য দেন।

এ ছাড়াও তদন্তের স্বার্থে বিভাগের প্রত্যক্ষদর্শী আরও ১৫ শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষক, পাঁচজন কর্মচারীর সা’ক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ সময় অন্য বিভাগের আরও পাঁচজন শিক্ষার্থীর সা’ক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। একই দিনে এর বাইরেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরু’দ্ধে নানান সময়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে সেসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সা’ক্ষ্য দেন বিভিন্ন বিভাগের আরও আটজন শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি সা’ক্ষ্য দেন ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরু’দ্ধে।

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনার বাইরেও আটজন শিক্ষার্থীর অনুরোধে তাদের সা’ক্ষ্যও গ্রহণ করতে হয়েছে। তারা তিন বছরে ওই শিক্ষকের কাছে নানান রকমের হ’য়রা/নির শি’/কা’র হয়েছেন মর্মে সা’ক্ষ্য দেন।

এ ছাড়াও রোববার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় অভিযুক্ত শিক্ষক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তদন্ত কমিটির নিকট এসে বক্তব্য পেশ করার সময় দেয়া হলেও তিনি মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে উপস্থিত হননি। তিনি একটি মেইল করে আরও কয়েক দিন সময় দরকার বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নানান বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। তবে ভু’/ক্তভো’/গী শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে অনেকেই কেঁ’দে ফেলেন বলেও জানান তিনি।

তবে কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত না হয়ে সময়ের জন্য আবেদন করেছেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের বসে তাকে কতটুকু সময় দেয়া যায় সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারপর সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

আব্দুল লতিফ যিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অতিরিক্ত কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বলেন, রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সিনেট সদস্য লায়লা ফেরদৌস হিমেলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা ছাত্রদের চূল কামিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রকৃত সত্য সামনে আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করে বলেন যে, তারা রিপোর্টিংয়ের জন্য তাদের উপর অর্পিত তদন্তের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিনেট সভাযর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী করনীয় বিষয়ে। যদি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরু’দ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরু’দ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তাও সুপারিশ করা হবে। এই সিনেট সভার মাধ্যমে এবং সেই সুপারিশ মোতাবেক তার বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

About

Check Also

ফের রাজধানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর বনশ্রীতে একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *