Friday , April 12 2024
Breaking News
Home / Countrywide / কোটি টাকার গাড়িতে কীভাবে সচিবালয়ে ঢুকতেন সেই কাদের

কোটি টাকার গাড়িতে কীভাবে সচিবালয়ে ঢুকতেন সেই কাদের

শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণ। তবে পরিচয় দিতেন অতিরিক্ত সচিব। আর এ পরিচয়কে পুজি করে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গ প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। সম্প্রতি এ সকল অভিযোগের আলোকে আব্দুল কাদের মাঝি ওরফে আব্দুল কাদের চৌধুরী নামে এক প্রতারকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে উঠে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা যায়, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় গত বছরের ২৩ মার্চ থেকে। কিন্তু কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে সচিবালয়ে প্রবেশ করতেন আব্দুল কাদের মাঝি ওরফে আব্দুল কাদের চৌধুরী। এক কোটি ২০ লাখ টাকার প্রাডো গাড়িতে চলাচল করতেন। সেই গাড়িতে আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ও ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগিয়ে ঢুকতেন সচিবালয়ে।

সচিবালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বলছে, সচিবালয়ে প্রবেশের আগে প্রায় সব গাড়িই তল্লাশি করা হয়। তবে অফিস টাইমে একসঙ্গে অনেক গাড়ি প্রবেশের সময় কিছু শিথিলতা থাকে। কিন্তু নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই।

এদিকে, ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রবেশের ফলে প্রশ্ন উঠেছে সচিবালয়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে। কাদের সচিবালয়ের কোন কোন কর্মকর্তার কাছে যেতেন সে বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

অতিরিক্ত সচিব ছাড়াও কাদের নিজেকে সিআইপি বলেও পরিচয় দিতেন। এক কোটি ২০ লাখ টাকার দামি গাড়ি, বডিগার্ড, ওয়্যারলেস সেট ব্যবহার করতেন তিনি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া কথিত ভুয়া কার্যাদেশ, মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার ছবি ও বিভিন্ন লেনদেনের ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করতেন। ৩৩ জন সচিবসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার কনসোর্টিয়াম ও ব্যবসা রয়েছে বলেও প্রচার করতেন অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দেওয়া আব্দুল কাদের চৌধুরী।

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে দেশের শত শত মানুষের কাছ থেকে সরকারি অনুদানে বাড়ি ও খামার তৈরির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই প্রতারককে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ অক্টোবর গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মিরপুর-৬ নম্বরের বাসা থেকে বাইরে যাওয়ার সময় নিজের প্রাডো গাড়িতে গ্রেফতার হন তিনি।

কাদেরের প্রতারণার নানা দিক তুলে ধরে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, কাদের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করতেন। তার নিয়োগ করা মার্কেটিং অফিসাররা বিভিন্ন ঠিকাদার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রচারণা চালাতেন। ভুয়া অতিরিক্ত সচিব সেজে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ফি নিতেন তিনি। ব্যাংক থেকে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রসেসিং ফি বাবদ ডাউনপেমেন্ট হিসেবে নিতেন ৫ থেকে ১০ শতাংশ টাকা।

বিশ্বাস জন্মানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ও বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্টের শত শত কোটি টাকার ঠিকাদারি পেয়েছেন বলে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করতেন। এসব ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তা বিক্রি করা হতো। তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা জামানত রেখে তিনি প্রতারণায় অংশ নিতেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন।

এছাড়াও সততা প্রপার্টিজের নামে নামমাত্র কিছু টাকা বায়নার মাধ্যমে জমি ও স্থাপনা কিনতে চুক্তি করেন কাদের, যেগুলো দিয়ে পরে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে টাকা আদায় করেন। এই প্রতারণার কাজগুলো সম্পন্ন করতে স্বল্পশিক্ষিত কাদের নিজেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপালন শেষে সবশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দিতেন।

 

এদিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত চালিয়ে তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানা গেছে, এ সকল কাজে নারীদের ব্যবহার করতেন প্রতারক কাদের। ব্যাংক লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। বেশকিছু তরুণীদের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে কাদেরের।

About

Check Also

কোনো এমপি এমন তথ্য আগে প্রকাশ করেননি: ব্যারিস্টার সুমন

কত ভাতা পান তা জানালেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *