Saturday , June 15 2024
Home / Countrywide / মিল্টনের বিষয়ে আরও ভয়াবহ-লোমহর্ষক তথ্য পেয়েছে পুলিশ: হারুন

মিল্টনের বিষয়ে আরও ভয়াবহ-লোমহর্ষক তথ্য পেয়েছে পুলিশ: হারুন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’’ নামের আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দার সম্পর্কে বেশ চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

রোববার তিন দিনের রিমান্ড শেষে মিল্টন সমাদ্দারকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার আদালতকে জানান, বর্তমানে ‘‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’’ আশ্রমে ৪৫ জন শিশু রয়েছে। পরে তাকে মানব পাচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম শান্তা আক্তার মানব পাচার আইনে দায়ের করা মামলায় মিল্টনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওই আদেশের একদিন পর সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান।

ডিবি প্রধান বলেন, ‘তথাকথিত মানবতার ফেরিওয়ালা যিনি কিনা নিজেই মাদকাসক্ত! অথচ মানবতার ফেরিওয়ালা সেজে বিভিন্ন মানুষকে প্রতারিত করে বৃদ্ধ, অনাথ এবং যারা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মানুষদের পুঁজি করে তিনি যে টাকা কামাচ্ছিলেন, এই টাকাগুলো তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই জমা হচ্ছিল। তিনি কিন্তু এসব টাকা ওই আশ্রিত মানুষের পেছনে খরচ করছিলেন না, চিকিৎসা দিচ্ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক তথ্য আমরা পেয়েছি, যা ভয়াবহ, লোমহর্ষক তথ্য। তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষ না করে কিছু বলা ঠিক হবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশিদ বলেন, মিল্টন সমাদ্দার একজন মাদকাসক্ত এবং সে ইয়াবা সেবন করে। সে নিজেই ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছে। তার টর্চার সেলে নির্যাতনের মাত্রা ছিল অমানবিক। মাদকাসক্ত ছাড়া কেউ শিশু-বৃদ্ধকে এভাবে মারতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, তাঁর আশ্রমে যারা মারা গেছেন, তিনি নিজেই ডাক্তারের সিল জাল করে ডেথ সার্টিফিকেট দিতেন। তিনি ধীরে ধীরে স্বীকার করতে শুরু করেন যে তাদের কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে তা জানানো হবে।

গত ১ মে রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরদিন বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মিল্টনের সহযোগী কিশোর বালাকেও আসামি করা হয়। এ মামলায় গত ২ মে মিল্টনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল হোসেন তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

About Nasimul Islam

Check Also

মসজিদের ইমামের কোনো দোষ নেই, জবির সেই আলোচিত ছাত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মো. ছালাহ উদ্দিনকে এক ছাত্রীকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার জের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *