Monday, January 30, 2023
বাড়িpoliticsআফরান নিশো ভয়ংকর রকমের নারীলোভী, মনে হয়েছে নিশোকে আচ্ছামত গালিগালাজ করি :...

আফরান নিশো ভয়ংকর রকমের নারীলোভী, মনে হয়েছে নিশোকে আচ্ছামত গালিগালাজ করি : মিলি

Ads

গতবছর না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন মডেল তানিয়া মাহবুব তিন্নি। তার না ফেরার দেশে যাওয়া নিয়ে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া পড়েছিল। ঘটনা সূত্রে জানা যায় তার স্বামী এবং স্বামীর বন্ধু মাইল তাকে না ফেরার দেশে পাঠিয়েছিলেন।ইতিমধ্যে এই নিয়ে তৈরী হয়েছে সিনেমা। এই প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রবাসী লেখিকা মিলি সুলতানা। নিচে সেটি দেওয়া হল –

প্রাক্তন মডেল তানিয়া মাহবুব তিন্নির জীবন কাহিনীর আলোকে নির্মিত “মরীচিকা” ওয়েব সিরিজটি দেখলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমার মধ্যে প্রচুর আগ্রহ কাজ করছিল, শিহাব শাহীন কিভাবে দুর্ধর্ষ ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভির অন্ধকারাচ্ছন্ন কার্যকলাপ উপস্থাপন করেন। এই ব্যাপারটা আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিন্নিকে উপস্থাপনায় আরেকটু মনোযোগী হলে বোধহয় ভালো হত। তবে গোলাম ফারুক অভির চরিত্রে আফরান নিশো উৎরে গেছেন।

নিশো ভয়ংকর রকমের নারীলোভী আর দুর্ধর্ষ ছাত্রনেতা চরিত্রে চমকপ্রদ অভিনয় করেছেন তিনি। অভির চরিত্রে আফরান নিশো এতই মিলেঝুলে গিয়েছেন যে, দেখে মনে হয়েছে নিশোকে আচ্ছামত গালিগালাজ করি, অভিশম্পাত দিই। আফরান নিশো সাকসেসফুল হয়েছেন। দর্শকের কাছ থেকে নেগেটিভ রিএক্ট পাওয়ার অর্থ হল তিনি দারুন প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। নির্মাতা কাহিনীকার শিহাব শাহীন অবশ্যই প্রশংসা ডিজার্ভ করেন। তবে তিন্নি – অভির চরিত্রের অনেককিছু তুলে আনতে পারেননি। সেখানে হয়তোবা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

তিন্নির সাথে সম্পর্ক চলাকালীন অভি এক বিমানবালার সাথে অ্যাফেয়ারে জড়িয়েছিলেন। সেই বিমানবালার দুলাভাই আবার সমাজের খুব পরিচিত একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। তার শ্যালিকার সাথে অভি যখন নিজের ইন্টিমেসির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তখন উক্ত গণ্যমান্য ব্যক্তি অভিকে প্রচুর শাসিয়ে ক্ষ্যান্ত করেছেন। তবে অভির চক্রব্যূহতে আটকা পড়েছিলেন আমাদের এক খ্যাতনামা তরুণী অভিনেত্রী।

অভির চরিত্রে ছিল ভ্রষ্টাচারের জোয়ার। তিনি উক্ত খ্যাতনামা অভিনেত্রীর মায়ের সাথেও সম্পর্ক পেতেছিলেন। অর্থাৎ জননী ও তার কন্যাকে একইভাবে সম্ভোগ করে আসছিলেন। তারপর অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে রাখেন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জন্য। ধূর্ত অভি রেসপেক্টেড জননীর ভিডিও তার কন্যাকে দেখালে কন্যার মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়। কোকের বোতল দিয়ে অভির মাথায় আঘাত করেন তরুণী অভিনেত্রী।

কাউকে নিয়ে বায়োগ্রাফি ফিল্ম বানাতে হলে বাস্তব জীবনের বিষয়গুলো বাদ দেয়া ঠিক নয়, তখন আর সেটাকে বায়োগ্রাফি বলা যাবেনা। যেহেতু তিন্নির জীবন অবলম্বনে সেহেতু এই বিষয়গুলো উপস্থাপন করা উচিত ছিল। আরেকটা প্রশ্ন, মরীচিকার জারা চরিত্র কি দর্শকরা তমালিকা কর্মকারকে ধরে নেবেন?? তমালিকা যদি তিন্নি হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হয়ে থাকেন, পরবর্তীতে তিনি অভির বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। হয়ত প্রাণ রক্ষার ব্যাপার ছিল। তবে আমরা শুনেছি অভি মোটা টাকা দিয়ে তমালিকার মুখ ও বিবেক বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

সবচেয়ে ভাইটাল ফ্যাক্ট যেটা, তিন্নির চরিত্রে মাহিয়া মাহি। কি করলেন মাহি? এটাকে অভিনয় বলে? আমি জানিনা মাহিয়া মাহিকে কিভাবে অভিনেত্রী বলা যেতে পারে? তিন্নির চরিত্রে রূপদান করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন মাহি। মাহির ডায়লগ ডেলিভারি ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ।তিন্নির আবেগ উগ্রতা অসহায়ত্ব -কিছুই ফুটিয়ে তুলতে পারেননি মাহি। আমার অবজারভেশনে তিন্নির চরিত্রে মাহির চেয়ে বিদ্যা সিনহা মিম অথবা তমা মির্জাকে ভালো মানাতো। তমা মির্জার অভিনয় মাহির চাইতে ভালো। তিন্নির বায়োগ্রাফিতে মাহি সুপার ফ্লপ। কিভাবে এরা বাংলা ছবির নায়িকা হন বুঝিনা। পুলিশ অফিসারের চরিত্রে সিয়াম ভাল অভিনয় করেছেন। পিয়ালের চরিত্রে জোভান বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে অভিনয় করেছেন। আর আফরান নিশো ছিলেন মরীচিকার প্রাণ।

 

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments