Monday, January 30, 2023
বাড়িNationalহঠাৎ অস্বাভাবিক বিমান ভাড়ায় দিশেহারা প্রবাসীরা

হঠাৎ অস্বাভাবিক বিমান ভাড়ায় দিশেহারা প্রবাসীরা

Ads

এবার দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক বিমান ভাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রবাসীরা। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য বেকার তরুণ যুবক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে থাকে তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাবার ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া এতোটাই বেড়েছে যেটিকে অনেক ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেশি বেড়েছে বলে ট্রাভেল এজেন্ট এবং যাত্রীরা বলছেন।

প্রবাসীদের চাপ বাড়ল: কক্সবাজারের মবিনুল হক মানিক দুবাইতে থাকেন। তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে দেশে এসেছিলেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবার ফিরে আসবেন।

মানিক সাহেব বলছিলেন, বিমান ভাড়া এত বেড়ে গেছে যে দেশে আসা-যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকা থেকে টিকিট কেনার চেয়ে দুবাই থেকে টিকিট কিনতে খরচ অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমি সত্যিই জানি না কেন এটা ঘটছে, এটা কি জন্য.

বিমান ভাড়া আকাশচুম্বী হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সুমাইয়া ইসলাম প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলছিলেন, অধিকাংশ মানুষ ঋণ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে যায়। অতিরিক্ত বিমান ভাড়া বহন করা তাদের জন্য বেশ কঠিন। নিম্ন আয়ের মানুষ যারা বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান তাদের আয় বাড়েনি। কিন্তু তাদের এই অতিরিক্ত বিমান ভাড়া গুনতে হবে। এতে তাদের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

ভাড়া বৃদ্ধির যুক্তি কী?

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যেমন ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করে, তেমনি কিছু বাংলাদেশী এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে ভাড়ায় তেমন পার্থক্য নেই। গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভাড়া বেশি ছিল। এটি কোভিডের আগে প্রায় দ্বিগুণ ছিল। বাংলাদেশী এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

কোম্পানিটির মুখপাত্র কামরুল হাসান বলছিলেন, ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে জেট ফুয়েলের দাম একশত পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, বিমানের পরিচালনার সঙ্গে জেট ফুয়েলের খরচ সরাসরি জড়িত। ফলে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে। তাছাড়া কোভিড-পরবর্তী একমুখী যান চলাচল বেড়েছে। ছাড়ার সময় যাত্রী বেশি কিন্তু ফেরার সময় কম। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্লাইট পরিচালনার খরচ সামঞ্জস্য রাখতে ভাড়া বাড়াতে হবে।

অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার বেশিরভাগ যাত্রীই ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে তাদের টিকিট বুক করেন। তারা বলছেন, সারা বিশ্বে বিমান ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কতটা বেড়েছে তাতে তারা বিস্মিত।

ট্রাভেল এজেন্টস অর্গানাইজেশন ইতাবের নির্বাহী সহ-সভাপতি মুজিবুল হক সরকার বলেন, বাংলাদেশ থেকে চাহিদা বেড়েছে এটা ঠিক, কিন্তু অনেক এয়ারলাইন্স তার ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতায় লিপ্ত হয়েছে। নির্বিঘ্নে চলার অবস্থা আসছে। উচ্চ মুনাফা অর্জন এবং অত্যধিক লেনদেনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানো নিয়ম হতে পারে না।

ট্রাভেল এজেন্সির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি কার্টেলে এয়ারলাইন্স থেকে বিপুল পরিমাণ টিকিট বুকিং করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

ফলে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দাম বাড়ার পাশাপাশি তাদের সুবিধাও পেতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সি সংগঠনের নেতারা।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যগামী বাংলাদেশের প্রবাসীরা বেশ বিপাকের মধ্যে পড়েছে , মূলত অস্বাভিক বিমানভাড়ার কারনে এই ভোগান্তির মুখে তারা পরে গিয়েছে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন। যাদের বেশিভাগই দেশ থেকে সহায়-সম্বল বিক্রি কিংবা ঋণ নিয়ে যেখানে যান কাজের জন্য। কিন্তু বিমান ভাড়া ভেড়ে যাওয়ায় তারা এখন বিপাকে পড়েছেন।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments