Saturday, February 4, 2023
বাড়িEconomyবিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ

Ads

বিশ্বব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ঋণ চেয়েছিলো বাংলাদেশ। এবং সেই প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে শর্ত দিয়েছিল কিন্তু দাতা সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা এখনও পূরণ হয়নি। এগুলো বাস্তবায়ন হলেই সাহায্য হবে। সেই সাথে বাজেট সহায়তা থেকে স্বস্তি পেতে সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার এ অনুরোধ জানান।

গত অর্থবছরে সরকার বাজেট সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কেটি ডলার ঋণ চেয়েছিল। এর মধ্যে জানুয়ারিতে কোম্পানিটি ইতিমধ্যে আড়াই কোটি ডলার ছাড় করেছে। বৈঠকে বাকি অর্ধেক ছাড় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ পেতে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা এখনও পূরণ হয়নি। সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আগামী জুনের মধ্যে বাজেটের বাকি সহায়তা দেওয়া হবে।

তিন দিনের সফরে শনিবার রাতে ঢাকায় আসেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরীফা খানের সঙ্গে দেখা করেন ড. এরপর অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।

অর্থমন্ত্রী বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও আলোচনায় উঠে আসে বাজেট সহায়তার বিষয়টি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় পুনরুদ্ধারের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আরও ঋণ চান মন্ত্রী।

বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রস্তাব রয়েছে। মুস্তফা কামাল বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে দ্রুত এই অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানান।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় ধাপের বাজেট সহায়তার জন্য দেওয়া শর্তের অগ্রগতি জানতে চান।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য আলাদা আইন।

জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকার এ বিষয়ে খসড়া আইনের কাজ করছে। শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে।

ওয়াশিংটনে প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে অর্থমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তার আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।

তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ করা নতুন ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগী। ১৯৭২ সাল থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশকে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে। এর মধ্যে অর্থ কমেছে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাংক সাধারণত বাংলাদেশকে প্রকল্প সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়াও, এটি বাজেট সহায়তা দ্বারা অর্থায়ন করা হয়।

বাংলাদেশের জন্য কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক বিশ্বব্যাংক তৈরি করেছে। এর আওতায় কোন বছরে কত ঋণ দেওয়া হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ নমনীয় ঋণ। ঋণের সুদের হার এক শতাংশের নিচে এবং পরিশোধের সময়কাল ১৫ থেকে ২০ বছর।

বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক সব সময় আমাদের পাশে থাকবে। তাদের হাত ধরে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৭২ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে যা দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছে। তবে এবারের যে সহায়তা চাওয়া হয়েছে তার শর্ত পুরুন করতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments