Monday, January 30, 2023
বাড়িpoliticsনতুন বিএনপি গঠনের খবর প্রসঙ্গে এবার খোলাখুলি কথা বললেন কর্নেল অলি

নতুন বিএনপি গঠনের খবর প্রসঙ্গে এবার খোলাখুলি কথা বললেন কর্নেল অলি

Ads

রাজনৈতিক পাড়ায় আবারো উঠেছে নতুন আলোচনা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি সম্প্রতি তার এক বক্তব্যে বলেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)’র চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন বিএনপি আসছে। এই খবর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুর রহমান একাধিক সভায় বলেছেন এমন খবরকে উড়িয়ে দিয়ে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমেদ বলেছেন, বিগত ১০ বছর ধরে ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে আমার দেখা হয়নি। টেলিফোনেও কথা হয়নি। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। তার সাথে আমাকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের আবদুর রহমানের বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং দূরভিসন্ধিমূলক। এ ধরনের বক্তব্য আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল লোকের মুখে আশা করিনা।

একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন অলি আহমেদ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দিন শেষ, যে কারণে তাদের শত শত কর্মী আমেরিকায় পালিয়েছে এবং তারা ওখানে বৈধ হতে এলডিপির সদস্যপদ নেওয়ার জন্য সার্টিফিকেট নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তারা প্রতিনিয়ত এলডিপিতে যোগদান করার জন্য বিভিন্নভাবে তদবির চালাচ্ছে। এলডিপিকে নিয়ে যে ব্যক্তি এমন মনগড়া বক্তব্য দিয়ে আসছে কিছুদিন পর সেই আবদুর রহমানের অবস্থাও অনুরূপ হতে যাচ্ছে। যে কারণ এখন থেকেই পাগলামো শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিপদে পড়লে আবদুর রহমানকেও আমরা এলডিপির সদস্যপদ দেবো। কারও ক্ষতি হোক সেটা আমি চাইনা। কারও পেছনে কুকুর লেলিয়ে দেওয়া আমার স্বভাব না।

আবদুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে অলি আহমেদ বলেন, তিনি মিথ্যা বলেছেন। মিথ্য বলা মহাপাপ, মিথ্যাবাদী কখনও মুসলমান হতে পারেন না। মিথ্যাবাদীদের আমি ঘৃণা করি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বিগত ৭/৮ বছরে নূন্যতমপক্ষে ৫ লাখ হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত পাচার করেছে। গরীবের টাকা লুটপাট করে দেশে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে তারা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য আয়েশি জীবন যাপনের ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্নভাবে দেশের টাকা সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। বর্তমান সরকার তাদের নামও প্রকাশ করছেনা। বিগত ১৩ বছর দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যার কারণে দেশে ডলারের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে এবং সাথে সাথে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আনুপাতিকহারে জ্বালানি তেলসহ সবকিছুর মূল্য ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অলি আহমেদ বলেন, বর্তমান সঙ্কট উত্তোরণে যতদ্রুত সম্ভব মধ্যবর্তী সরকার গঠন করে রাজনীতির মাঠ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারকে দ্রুত প্রত্যায়ন করা, অন্যথায় স্বাভাবিক গতিতে আল্লাহর হাত থেকে কেউ মুক্তি পাবেনা।

মধ্যবর্তী সরকার গঠন করা এই মূহূর্তে সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্যদের দিয়ে গঠন নয়, বরং ন্যায় নিষ্ঠাবান, সৎ শিক্ষিত দেশ প্রেমিক এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যাক্তিদের সমন্বয়ে মধ্যবর্তী সরকার গঠন করা সম্ভব।

সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে সংসদ বিলুপ্ত করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পূণর্গঠন করে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি তাদের দাবির সাথে এলডিপি একমত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির সকল দাবির সাথে আমরা একমত। এ ব্যাপারে গত চারমাসে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের উপস্থিতিতে আমাদের একাধীকবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে এ সরকার ক্ষমতাচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঐক্যমত পোষণ করেছি। বিএনপির সাথে আমাদের বিরোধ নাই। আমরা আমাদের মত করেই কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছি। সকলের লক্ষ্য একটাই এ সরকারের পদত্যাগ, অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা, অবৈধ সংসদ বিলুপ্ত, দূর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও গণতন্ত্র পুণ:প্রতিষ্ঠা করা।

শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কি আপনারা অংশগ্রহণ করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের অলোচনা হয়েছে। বিএনপি নিশ্চয়তা প্রদান করেছে নিশিরাতের ভোটে নির্বাচিত সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এলডিপিও তাদের সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করেছে।

তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এই দুস্কৃতিকারীরা দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে বিদেশে পলায়নের জন্য পাাঁয়তারা করছে। এছাড়া দেশের মধ্যে এক শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারি দেশের বিভন্ন শহরে নিজ নামে ও স্ত্রী সন্তানের নামে ফ্ল্যাট, বাড়ি, জায়গা-জমি, বাণিজ্য পরিচালনা করছে। দূর্নীতির ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক স্পষ্ঠভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অবৈধভাবে উপার্জনকারীরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী করেনা।

সরকারের দূর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তারা কর্মচারি লীগ হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থন করছে। ২০১৮ সালে রাতের অন্ধকারে ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ভর্তি করতে সাহায্য করেছে। অবৈধভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য সাহায্য করেছে। এবং প্রতিনিয়ত হাতেগোনা কয়েকজন তাদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, জনগণ আজ অতিষ্ঠ, দূর্বিসহ জনজীবন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা বা অধিকার রাখেনা। আমাদের লক্ষ্য হল জনগণের মাঝে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সকলের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। জাতি ধর্ম নির্বিশেষ সকলের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুশাসন নিশ্চিত করা। দেশকে বাকশালী শাসন থেকে মুক্ত করা।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতায় থাকার জন্য একতরফাভাবে ভারতকে দিয়ে এসেছে। ভারত এখনও বাংলাদেশের কোন সমস্যা মিমাংসা করতে পদক্ষেপ নেয় নাই। বর্তমান সফরে যেসব সমঝোতা স্বারক হয়েছে তার জন্য একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশালবহর নিয়ে ভারত যাওয়ার কোন প্রয়োজন ছিলনা। সবকিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভারতে ইে সফরে প্রাপ্তি শুন্য। বরং নতুনভাবে তলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। ভারতের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের বুকের ওপর দিয়ে বেনাপোল, আরিচা, ঢাকা ও সিলেট হয়ে আসামে করিডোর নিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে অনেকগুলো জিনিস দিয়েছে। যার ফলে, দেশ ও দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরারাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি একজন দেশদ্রোহী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী নন বলেই তাদের পক্ষে এ ধরনের বক্তব্য রাখা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরারাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের বক্তব্য নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছিল নানা আলোচনা সমালোচনা। মুলত তিনি জন্মাষ্টমি অনুষ্ঠানে তার এক বক্তব্যে বলেছেন শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তিনি ভারতকে জানিয়ে এসেছেন, মুলত এই বক্তব্যের জেরে শুরু হয়েছিল সমালোচনা

 

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments