Sunday, February 5, 2023
বাড়িConutrywideঅভিযোগ দিতে গিয়ে সম্পর্ক, এসআইয়ের বিরুদ্ধে খারাপ কাজের অভিযোগ শিক্ষিকার

অভিযোগ দিতে গিয়ে সম্পর্ক, এসআইয়ের বিরুদ্ধে খারাপ কাজের অভিযোগ শিক্ষিকার

Ads

এবার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার অভিযোগ করতে গিয়ে পুলিশের এসআই এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এক নারী ওই নারী মূলত পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা। এদিকে ওই পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) যখন ওই নারীকে বিয়ে করেছেন তখন তার নিজের প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন।

একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) একজন স্কুল শিক্ষকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যখন ওই নারী তার সাথে ঘটে যাওয়া খারাপ কাজের অভিযোগ করতে যান। এরপর প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন ফেনী জেলা পুলিশের ডিএসবি শাখার এসআই আলাউদ্দিন। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়ার ঘটনা ও গ’র্ভ’বতী হওয়ার পর গ’র্ভ’পা’তে’র ঘটনায় ওই নারীকে তালাক দেন এসআই। বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ দিন বিচ্ছেদের পর ওই নারীকে একাধিকবার বলাৎকার করেন আলাউদ্দিন। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এসআইয়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

শনিবার (৩ নভেম্বর) সকালে ফেনী মডেল থানায় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালে ভুক্তভোগী শিক্ষক ফেনী মডেল থানায় একটি নেতিবাচক কর্মকান্ডের ঘটনায় অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ওই সময় ফেনী মডেল থানার এসআই আলাউদ্দিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ওই শিক্ষকের সঙ্গে এসআইয়ের নিয়মিত যোগাযোগের কারণে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর এসআই আলাউদ্দিন প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষককে চট্টগ্রামের একটি কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ে করলেও তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি এসআই। স্ত্রীর মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির কথা বলতে গেলে নানা দ্বিধা-দ্বন্ধ দেখাতেন।

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১-এ, মহিলাটি বুঝতে পারেন যে তিনি বিবাহিত জীবন চলাকালীন গর্ভবতী ছিলেন। বিষয়টি তিনি জানালে এসআই আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রহার করেন। এ ছাড়া ওষুধ খাওয়ার পর তার গ’র্ভ’পা’ত হয়। এতে ওই নারী সন্তানের মা হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। এ ঘটনার পর তিনি ভেঙে পড়েন। পরে স্ত্রীর স্বীকৃতির জন্য বেশি চাপ দিলে এসআই আলাউদ্দিন ২১ মার্চ চট্টগ্রামের ওই কাজী অফিসে গিয়ে তালাক দেন। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ না করে সম্মানের ভয়ে চুপ থাকেন ওই নারী।

কিন্তু গত এক থেকে দেড় মাস পর আবারও ওই শিক্ষককে বিরক্ত করতে থাকে আলাউদ্দিন। এরই মধ্যে ওই নারী তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু ওই নারী বাড়ি থেকে বের হলে আলাউদ্দিন একটি বাইক নিয়ে তাকে অনুসরণ করেন। এরপর তিনি ওই নারীর ঠিকানা নেন, কল লিস্ট বের করেন এবং রাস্তায় হাঁটার সময় রিকশা থামিয়ে রিকশাচালককে গা”লি”গা”লা”জ করেন। ওই নারীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতে থাকে।

চলতি বছরের ১২ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে আলাউদ্দিন ওই নারীর শহরের বাড়িতে ঢুকে ওই নারীকে বলাৎকার করে। একপর্যায়ে এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে আমাকে না ফেরার দেশে পাঠানো হবে এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে প্রকাশ্যে দেওয়ার হু’ম’কি দেন। একইভাবে ২৩ নভেম্বর বিকাল ৩টার দিকে ওই নারীর নতুন বাড়ির ১১ তলার ফ্ল্যাটে এসে ঢুকে পড়ে। এ সময় ভিকটিম চিৎকার করলে সে তাকে হুমকি দিয়ে পুনরায় বলাৎকার করে।পরে এসআই আলাউদ্দিন তাকে এই কথা কাউকে জানালে তাকে আবারও হুমকি দেন।

ভিকটিম বলেন, ‘আমি একজন স্কুল শিক্ষিকা। তা ছাড়া আসামি একজন পুলিশ সদস্য। মান-সম্মানের ভয়ে চুপ থাকায় মামলার সিদ্ধান্তে বিলম্ব হয়েছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এসআই আলাউদ্দিন বর্তমানে জেলা বিশেষ শাখায় (ডিএসবি) কর্মরত। তার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এসআই আলাউদ্দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, এখন আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে।

 

এদিকে ওই নারীর সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, এক নারী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি ক্ষতিয়ে হিসেবে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনাটি এখন বেশ আলোচনা তৈরী করেছে সর্বত্র ।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments