Tuesday, January 31, 2023
বাড়িopinionপিলখানায় ঘটনা চলাকালীন নানক-আজম সেখানে ঢোকে, আজম তার ভগ্নিপতির প্রতিশোধ নেন :শামসুল

পিলখানায় ঘটনা চলাকালীন নানক-আজম সেখানে ঢোকে, আজম তার ভগ্নিপতির প্রতিশোধ নেন :শামসুল

Ads

আওয়ামীলীগের দাপুটে নেতা মির্জা আজম। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিনপির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তার এক বক্তব্যে বলেছেন আওয়ামীলীগকে আন্দোলনের ভয় দেখবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক শামসুল আলম। নিচে সেটি তুলে ধরা হল –

কেনো? মির্জা গোলাম আজমরা কি খুব বেশি ভয় পাইতেছেন? নাকি অতীতের মত আবার কোনো বড় আকাম করবেন? কি কি করতে পারেন_____

১) হোটেল শেরাটনে যেভাবে গান পাউডার দিয়ে দোতলা বাস বাস জ্বালিয়েছিল নানক আজম, ওভাবে আবার বাস জ্বালিয়ে দিয়ে বিএনপির নামে মামলা দিতে পারেন! ঐ ঘটনা সম্পর্কে ২০০৭ সালের জুন মাসে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম (শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই) ঐ ঘটনা সম্পর্কে সেনা গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে বলেন___

“যুবলীগ অফিসে বসে প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী (নানক-আজম) ঘটনা ঘটাইছে।
তারা ঠিক করেছে, যে কোনো ভাবে ঘটনা ঘটাইতে হবে।
নানক আজম যে ঘটনা ঘটাইছে এটা কনফার্ম।….. বাসে আগুণ ধরার পরে আমরা আলাপ করছি। ……. নেত্রীকে বললাম, যুবলীগ ঘটনা ঘটাইছে বলে খবর আছে। এই গুন ঠিক হয় নাই। তুমি এগুলা দেখো। যা করার তুমি করো।”

২) প্রতিবেশিদের প্লানে ২০০৯ সালের পিলখানা ম্যাসাকারে জড়িত হয়েছিল নানক-আজম মানিক জোড়। চাইলে আবারো কিছু করে বিএনপির নামে চালিয়ে দিতে পারেন। অবশ্য পিঅখানয় ৫৭ সেনা অফিসার হ_ত্যা নিয়ে আর্মি যখন তদন্ত করে মির্জা আজমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, তখন সে পালিয়ে যায় ব্যাংককে, অনেক পরে দেশে ফিরে আসে।

৩) দুলাভাই শায়খ আবদুর রহমানকে দিয়ে জেএমবি সৃষ্টি করে প্রতিবেশিদের থেকে বো_মা পাওয়ার জেল এনে সারা দেশে বোমা ফুটাফুটি করেছিল। বিএনপির আমলে এই শায়খ রহমানকে গ্রেফতার করেছিলেন র‌্যাব পরিচালক কর্নেল গুলজার, পরে সেই শায়খ রহমানকে ফাঁ_সি দেয়া হয়। তাছাড়া কর্নেল গুলজার ২০০৮ সালে নানক-আজমের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়, শেরাটনের বাসে আগুন দিয়ে হ_ত্যা মামলায়। পিলখানায় সে_না_হ_ত্যা যখন চলছিল, তার মধ্যেই নানকের সাথে আজম ঢোকে পিলখানায়, এবং তার নির্দেশেই কর্নেল গুলজারকে হ_ত্যা করে লা_শ জ্বা_লিয়ে দেয়া হয়। আজম তার ভগ্নিপতি শায়খ রহমানের ফাঁ_সি_র প্রতিশোধ নেন এভাবেই।

বিএনপিকে থামাতে চাইলে আবারও তেমন কিছু করতে পারেন!

৪) মগবাজারে নির্মিত ফ্লাইওভার প্রকল্পটি অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেছে তমা কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছে করেই নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেনি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় বাড়ানোর সঙ্গে তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পের বাজেট ছিল ৩৩৪ কোটি টাকা, যা শেষমেষ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অতিরিক্ত খরচ ৮৯৫ কোটি টাকা, যা পুরোটাই লুটপাট। লীগ সরকারের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আজম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক ও মন্ত্রী ওবায়দুলের হরিলুটের কারনে মগবাজার ফ্লাইওভার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্থাপনা হিসাবে রেকর্ড সৃষ্টি করে।
৫) প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল, ‘মন্ত্রী মামলা ঠিকাদারের স্বার্থের বলি যাত্রীরা! ট্যাক্সিক্যাব উঠলেই ১০০ টাকা ভাড়া।’ এ সিন্ডিকেটে তমা কনস্ট্রাকশন ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামের দুটি সংগঠনের সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা গোলাম আজম, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরী, তমা কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আতাউর রহমান মানিকের নাম এসেছে।

দেশের শত শত সরকারী নির্মানকাজের দুর্নীর্তির সাথে জড়িত তমা গ্রুপের চেয়্যারম্যান হিসেবে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক নামক একটা লোককে সামনে রাখা হলেও বিনা বিনিয়োগে এর মূল মালিক জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানের শ্যালক মির্জা আজম, যিনি ছিলেন শেখ হাসিনার পাট বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। নিম্নমানের কাজ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশে বহু মানুষ হত্যাকারী ঠিকাদার হয়েও হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারী কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে এই তমা কনস্ট্রাকশন।

৬) মির্জা আজম এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। হাতে এত টাকা যে, কর্মীরা হাত বাড়ালে ১০/২০ লাখ টাকা ছুড়ে দেয়া তার অভ্যাসে দাড়িয়েছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নিজের ভাই মির্জা কবীরকে বিনাভোটে পৌরসভা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। মায়ের চল্লিশায় খাওয়ানো বাবদ খরচ করেছেন ৪ কোটি টাকা। পুরো জামালপুর জেলার সকল কন্ট্রাকটরী করেন মির্জা আজম। জামালপুর শহরে ৫০ কোটি টাকায় নিজের বাড়ি নির্মান করেছেন আজম। স্ত্রী এবং স্বজনদের হাজার বিঘার ওপরে জমি করেছেন মেলান্দহে। নিউইয়র্ক, কানাডা, লন্ডনে একাধিক বাড়ি করেছেন। জামালপুরের অঘোষিত ‘রাজা’ তিনি।

আর কি চাই- তিনি তো হুমকি দিবেনই। তবে গণবিস্ফোরণ দেখে তাদের ভেতরে কিন্তু কলিজা কাঁপে। একটু ওলট পালট হলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, সবার আগে দৌড়ে বর্ডার পার হওয়ায় ফার্স্ট হবেন।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments