Monday, January 30, 2023
বাড়িEconomyসুখবর আসছে, কঠিন শর্তে মিলছে আইএমএফের ঋণ

সুখবর আসছে, কঠিন শর্তে মিলছে আইএমএফের ঋণ

Ads

আইএমএফ এর রিন্ এর জন্য বাংলাদেশ আশাবাদী তবে তাদের প্রতিনিধি দল এই বিষয়টি নিয়ে ভালভাবে খতিয়ে দেখছে।আন্তর্জাতিক এই মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মিশনের সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা প্রায় শেষের দিকে। বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাদের সফর শেষ হবে।

ঋণের শর্তাবলী নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে টানা ১৫ দিন আলোচনার পর বুধবার সফররত আইএমএফ মিশন একটি প্রতিবেদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের আগে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন আইএমএফ কর্মকর্তারা।

বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে চূড়ান্ত বৈঠক করবে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান এবং অর্থ বিভাগের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

আইএমএফ সফরের পর বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত কী ধরনের ঋণ পাচ্ছে, তার জন্য কোনো কঠিন শর্ত দিচ্ছে কি না, সরকার কতটা মেনে নেবে, এসব প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষও জানতে আগ্রহী। এদিকে ঋণের শর্ত নিয়ে কিছুটা সমালোচনাও হয়েছে।

আইএমএফ থেকে সম্ভাব্য ঋণ নিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতারা।

সম্প্রতি রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সংলাপ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএর সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেছেন, দেশের স্বার্থে আইএমএফকে তোয়াক্কা করা উচিত নয়।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংকটকালে ঋণ পেলে সরকারের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

তবে শর্ত যাই হোক না কেন, আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ দেবে তা অনেকটা নিশ্চিত। আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঋণ আলোচনায় জড়িত সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, “আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। বুধবার একটি ভালো খবর পাবেন।

সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর ২টায় সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সুখবর দিতে চান মন্ত্রী।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে সৃষ্ট চাপ মোকাবেলায় বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে একটি আইএমএফের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা বাংলাদেশি টাকায় ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এ বিষয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষে ওয়াশিংটনে আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ হিসেবে আইএমএফ দক্ষিণ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করতে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকায় আসেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঋণের টাকা পেলে তা বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য, বাজেট সহায়তা এবং জলবায়ু প্রভাব খাতে ব্যয় করা হবে।

আইএমএফ নতুন ঋণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রেখেছে, যেমনটি এক দশক আগে এনহ্যান্সড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) এ করেছিল। তিন কিস্তিতে মোট ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কিস্তি ছাড়ার আগে সরকারকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের সবার অবস্থা খারাপ তা বলা যাবে না। তারা দেশীয় রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে এবং ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর কথা বলেছেন। তারা আর্থিক খাতে সুশাসন চায়। এ জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ড. আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই সংস্কারগুলো করতে হবে।

আইএমএফ বরাবরই বাংলাদেশে ভর্তুকির পরিমাণ বেশি বলে অভিযোগ করে আসছে। তারা বলল কমাতে। তারা মুদ্রাস্ফীতি রোধে ব্যাংক খাতের ঋণের সুদের হার সীমা তুলে নিতে বলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায় আইএমএফ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় আইএমএফ প্রতিনিধি দল বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ব্যালেন্সে ঘাটতি বেড়েছে। রপ্তানি সূচক, রেমিট্যান্সও ভালো নয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে অস্থিরতা রয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে। আমদানি করতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে আঘাত এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত দুই মাসে রপ্তানি কমেছে। তবে নভেম্বর থেকে স্বাভাবিক হবে। রেমিটেন্স বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঋণ পেতে আইএমএফের কিছু শর্তে সরকার নমনীয় হয়েছে। অর্থনীতির জন্য পরিস্থিতি ভালো হলেও সরকারের জন্য বেশ সংবেদনশীল। সরকার এখনো সংস্কারের ব্যাপারে দ্বিধাহীন, বিশেষ করে ভর্তুকি খাতে। আইএমএফের মতে, আগামী বছরের মধ্যে ভর্তুকি খাতে সংস্কার আনতে হবে। জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতে ভর্তুকি কমাতে হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। আরও বাড়লে দেশের খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তা ছাড়া এটা সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

আইএমএফ প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়, গত আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম ৫২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে তেল বিক্রি করে মুনাফা করছে সরকারের জ্বালানি বিপণন সংস্থা বিপিসি। এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। এটা করা গেলে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমছে। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমবে। ফলে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তা ছাড়া সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি কমেছে।

আইএমএফ কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল যে সরকার রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে এবং অর্থনীতিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। খেলাপি ঋণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইএমএফ যে পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেছে তা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করে সরকার। আইএমএফ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের পাশাপাশি কিছু খাতে ১২ শতাংশ নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইএমএফ স্টাফ মিশনের সঙ্গে তাদের আলোচনা সফল হয়েছে। তারা ভালো ফলাফলের আশা করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে দেখা দিয়েছে ডলার সংকট যার ফলে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে দেশ। একদিকে প্রবাসী আয় কমে গিয়েছে অন্য দিকে আবার দেশের রপ্তানি বাণিজ্য করে যে আয় হাত তাও কমে গিয়েছি যার কারনে দেশে ডলার সংকট দেখা দিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments