Saturday, February 4, 2023
বাড়িopinionদুটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে বললাম, ব্যাংকে কী টাকা নেই,তারা যা জানালো তাতে হতাশ...

দুটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে বললাম, ব্যাংকে কী টাকা নেই,তারা যা জানালো তাতে হতাশ হয়েছি : তুহিন

Ads

বাংলাদেশে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি বাণিজ্য এর মাধ্যমে যে দলের আসতো সেটা অনেকটাই কমে গিয়েছে যার ফলে একরকম সংকট তৈরী হয়েছে। এই অবস্থায় দেশের রিজার্ভ দিয়ে চলতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রসঙ্গ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক আরিফুজ্জামান তুহিন। নিচে সেটি তুলে ধরা হল –

গ্রামের দরিদ্র মানুষদের দিয়ে পশু পালন, কৃষি পন্য উৎপাদন করে সেটা ঢাকায় এনে বিক্রি করার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রান্তিক মানুষের তৈরি করা পণ্য ঢাকার বাজারে বিক্রির জন্য একটা শপও করছি। এই কাজ করতে গিয়ে গ্রামের গরিব মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। আশা করছি এই শীতের শেষে আমাদের পন্য বাজারে আসবে। যদি মডেলটি ঠিকঠাক মত কাজ করে তাহলে দুটি ভাল বিষয় ঘটবে। এক. খেটে খাওয়া গরিব কৃষক ও জেলেরা তাদের উৎপাদিত ফসল, গরু, ছাগলের ভাল দাম পাবে। জেলেরা মাছের দাম আগের থেকে বেশি পাবে।

২. ক্রেতারা আগের চেয়ে কমদামে গুনগত মানসম্পন্ন মাংস, মাছ ও কৃষি পন্য কিনতে পারবে। এই কাজটি করার জন্য বেশ ভাল বিনিয়োগ দরকার। বিনিয়োগের জন্য আমি ব্যাংকের কাছে যাচ্ছি। ব্যাংক বলছে, তারা এরকম কাজে ঋণ দিতে পারবে না। আমি যতই আমার মডেল নিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, তারা বলছে এটি যদি ভবিষ্যাতে আমাজন, ফেইসবুক, টুইটার, আলিবাবার মত জায়ান্ট কিছুও হয়-তবুও তারা টাকা দিতে পারবে না।

আমি অন্তত দুটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে বললাম, ব্যাংকে কী টাকা নেই? তারল্য সংকট? বললাম দেশে লাখ কোটি টাকা ব্যাংকে অলস পড়ে আছে। আমাকে কেন ঋণ দেবেন না। তারা বললো ব্যাংকে কোনো তারল্য সংকট নেই। কিন্তু তারা ঋণ দিতে পারবে না। কারণ ঋণ নিতে হলে আমাকে জামানত (কোল্যাটারাল) দিতে হবে। আবার এই কোল্যাটারাল ঢাকায় থাকতে হবে। আমার গ্রামের কৃষি জমি তারা কোল্যাটারাল হিসেবে নেবে না। বেশ হতাশ হয়েছি। কারণ, তাহলে উদ্যেক্তা হতে হলে, ঢাকায় জমি থাকতে হবে, বাড়ি থাকতে হবে। এটাতো তেলো মাথায় তেল দেয়া। নতুন উদ্যেক্তাদের তাহলে কে ঋণ দেবে?

আমিতো ছেড়ে দেয়া পাত্র না। দরকার হলে জমিজমা স্থাবর অস্থাবর সব সম্পদ বেঁচে হলেও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবো। ব্যাংকের এইসব পাতি ব্যবস্থাপকের কথায় হার মানা যাবে না। কিন্তু এর মধ্যে আমার কয়েকজন ক্ষুদ্র চাষি সম্প্রতি আরেকটি সংকট তৈরি করেছে, তাদের একজন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়। এলাকাটি বিস্তির্ন চর। এই চরঘিরে আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তিনি, নেটে (ফেইসবুক ও ইউটিউবে) দেখেছেন যে দেশের ব্যাংকের টাকা সব শেষ। এখন তার জমানো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সে তুলে এনে বাড়িতে রেখেছে।

 

এই টাকা তাকে আবার সাবধানে রাখতে হয়। কারণ ওই এলাকাটি ভাল না। তার পাশের বাড়িতে একজন থাকেন সৌদি আরবে, সে ভয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে না। সে টাকা পাঠাচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। আমি তাকে কোনভাবেই বোঝাতে পারলাম না, দেশের ব্যাংকের টাকার সমস্যা নেই। এই টাকা যদি কোন ফাটকা বিসনেসে বিনিয়োগ করে তাহলে গোটা টাকাটাই কিন্তু ঝুকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে বা বেহাত হতে পারে। আর এরকম সময় নানানরকম পঞ্জি স্ক্রিম নিয়ে গ্রামগুলোতে হাজির হচ্ছে অনেকে। এরকম একটি পঞ্জি স্ক্রিম দেখলাম কুড়িগ্রামে। সেখানে বলা হচ্ছে, আমেরিকার একটি কোম্পানির ১০০ ডলারের একটি শেয়ার কেনার অপশন রাখা হয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ করলে মিলিয়নার হওয়া যাবে। এই শেয়ার আমি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে বিক্রি হতে দেখেছি। এসব পঞ্জি স্ক্রিমে টাকা রেখে একদম ফকির হয়ে যাবে মানুষ।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজনের চেয়ে বাড়তি রয়েছে। ফলে তারল্য সংকট বা নগদ টাকায় কোনো সংকট নেই। দেশের ব্যাংকগুলোতে যখন অতিরিক্ত টাকা জমে যায় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক সেই টাকা স্বল্প সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নিয়ে নেয়। পড়ে থাকা টাকার ওপর সামান্য কিছু সুদও দেয়। গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর অকশানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অলস টাকা কিনেছে দুদিনে যার পরিমাণ ৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের গচ্ছিত আমানত থেকে ১৭ শতাংশ পরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (সংবিধিবদ্ধ জমা) হিসেবে রাখতে হয়। বাকি টাকা ঋণ দিতে পারে ব্যাংকগুলো। ইসলামি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৯ শতাংশ।

 

৬ জুলাই ২০২১ সালে প্রথম আলোতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ‘গত এপ্রিল শেষে ব্যাংকগুলোতে ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য ছিল। সেই টাকার একটি বড় অংশ তারা সরকারি বন্ড এবং অন্য ব্যাংকের পারপেচুয়াল বন্ডে বিনিয়োগ করেছে। এরপরও তাদের কাছে ৪০-৪৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য অলস পড়ে রয়েছে। গত বছরের জুনে ব্যাংক খাতে তারল্যের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।’ এটার অর্থ এই অলস টাকা বাড়ে ও কমে। ২০২০ সালে জুনে ব্যাংকে থাকা অলস টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। সেটি ২০২১ সালের এপ্রিলে বেড়ে হয়েছে ব্যাংকগুলোতে ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৬ কোটি। আবার ২০২২ সালের নভেম্বরে সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা।

প্রথম আলোর এই প্রতিবেদন আমাদের আরও জানাচ্ছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের ১ জুলাই থেকে এ বছরের ২৮ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ৪৫৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে তাঁরা পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৮০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এতে দেখা যায়, এক বছরে প্রবাসী আয় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণত ব্যাংকগুলোতে আসা প্রবাসী আয়ের অর্ধেক গ্রাহক তুলে নেন। বাকি অর্থ ব্যাংকগুলো আমদানি খাতে ব্যবহার করে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংকের ডলার রাখার একটি সীমা আছে। এর বেশি হলেই তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়। করোনার কারণে আমদানি চাহিদা কম থাকায় বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৯৪ কোটি ডলার কিনে নেয়। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৬৭ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে থাকা ভালো কিছু নয়। পড়ে থাকা অলস টাকার কারণে মন্দারও শুরু হতে পারে। যদি ব্যবসাখাতে ঋণ প্রবাহ কমে যায় তাহলে অলস টাকা রিতিমত একটা ব্যাংকের জন্য গলার কাটাও হয়ে দাড়ায়। কারণ ব্যাংকগুলো ছোট আমানতকারিদের নিয়মিত সুদ দিতে হয় তাদের টাকা রাখার জন্য। এখন যদি ব্যাংকগুলো ঋণ না দেয়-তাহলে ছোট আমানতকারিকে সুদ দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলো বড় সংকটে পড়ে যায়।

হুন্ডি হচ্ছে টাকা, প্রবাসী আয় কমেছে: ২০২১ সালের মে মাসে প্রবাসী আয় ছিল ২১৭ কোটি ডলার, সেটি এ বছর মে মাসে ১৮৮ কোটি ডলার। গত বছরের জুনে প্রবাসী আয় ছিল ১৯৪ কোটি ডলার, সেটি এবার ১৮৩ কোটি ডলার। গত বছরে জুলাইতে ১৮৭ কোটি ডলার ছিল প্রবাসী আয়, সেটি এ বছর বেড়ে হয়েছিল ২০৯ কোটি ডলার। গত বছর আগস্টে ছিল ১৮১ কোটি ডলার, এবার সেটি ছিল ২০৩ কোটি ডলার। গত বছর সেপ্টেম্বরে ছিল ১৭২ কোটি এবার সেটি ১৫৪ কোটি ডলার। গত বছরের অক্টোবরে ছিল ১৬৪ কোটি ডলার, এবার সেটি ১৫২ কোটি ডলার। গত বছরের মে থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। সেটি গত মে থেকে অক্টোবর পযন্ত হয়েছে, ১ হাজার ৮৯ কোটি ডলার।

 

২৬ কোটি ডলার কম এসেছে। অথচ তথ্য উপাত্ত বলছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর অন্তত তিন লাখ শ্রমিক বিদেশে গেছে। সে তুলনায় প্রবাসী আয় বাড়ার কথা, সেটা না হয়ে উল্টো কমে গেছে। হুন্ডিতে এই টাকা আসছে। এটা ছাড়াও আরও কিছু কারণ আছে।

তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রবাসীদের টাকা পাঠাতে ১০০ টাকায় গড়ে তিন টাকার বেশি খরচ হয়। বাংলাদেশের শ্রমিকরা সব থেকে বেশি থাকে সৌদি আরবে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ১০০ টাকা পাঠাতে খরচ হয় ৩ টাকা ৪১ পয়সা। আরব আমিরাত থেকে সর্বোচ্চ ৫ টাকা ২২ পয়সা ও বাহরাইন থেকে ১ টাকা ৩০ পয়সা খরচ হয় প্রতি ১০০ টাকা পাঠাতে। সৌদি আরবের পরেই সর্বোচ্চ শ্রমিক থাকেন আরব আমিরাতে। সম্প্রতি সরকার বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে সব ধরনের মাশুল মওকুপ করেছে। এর পাশাপাশি যেটা দরকার সেটি হলো, বিদেশ থেকে পাঠানো আয়ের ওপর ডলারের ভিন্ন রেট দেয়া।

 

হুন্ডির ওপর কড়াকড়ি করলেই হবে না। বিদেশীরা যাতে সহজে টাকা পাঠাতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে বড়রকম জটিল ফরম ও তথ্য বাতিল করতে হবে। প্রক্রিয়াটি সহজে কিভাবে আনা যায়, অ্যাপসের মাধ্যমে করা যায় কিনা সেটি ভাবতে হবে।
সব শেষ করি ব্যাংকের তারল্যসংকট নিয়ে। ব্যাংকে তারল্য সংকট এটি সুনির্দিষ্টভাবে একটি পক্ষ ছড়িয়েছে। যদি এই গুজব সারা দেশের মানুষ খাওয়া শুরু করে বা বিশ্বাস করে তাহলে গোটা অর্থনীতি রাতারাতি ধবসে পড়বে। সেই চিত্র কেউ কল্পনা করতে পারছেন না। এমন কী যারা গুজব ছড়াচ্ছেন তারাও এর ফল ভোগ করবেন।

 

তারল্য সংকটের বিষয়টি বুঝতে কিছু তথ্য পড়ুন। এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে নগদ টাকা নেয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ দিয়ে। এটাকে ’কল মানি’ বলে, এই কলমানির সুদের হার নির্ভর করে তারল্য সংকট কত গভীর তার ওপর। ধরুন সোনালি ব্যাংকের কাছে নগদ টাকা আছে ৩০ হাজার কোটি টাকা, তার কাছ থেকে ঢাকা ব্যাংক গত ১৪ নভেম্বর ২০০ কোটি টাকা নগদ নিয়েছে একদিনের জন্য বা এক সপ্তাহের জন্য। এর জন্য তাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ দিতে হয়। যদি তারল্য সংকট বা ব্যাংকে টাকা না থাকে বা একদমই সারা দেশের সব ব্যাংক ফাকা হয়ে যায় তাহলে কলমানি নেয়ার হার বাড়বে।

২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল গড়ে প্রতিদিন ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে গড়ে টাকা ধার নিয়েছে বা কলমানি নিয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। ২০২১ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংকগুলো কলমানি ছিল প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর যে তথ্যটি দেব সেটা খুব খেয়াল করুন, মনোযোগ দিন। ২০২০ সালে যখন কলমানি নেয়া হচ্ছিল গড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা প্রতিদিন, তখন আমাদের সবগুলো ব্যাংক মিলে অলস টাকা পড়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। গত বছরে কলমানি নেয়ার পরিমাণ বাড়ে তার আগের বছরের তুলনায়, অর্থাৎ গত বছরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (আমি এ পর্যন্ত চেক করেছি) কলমানি নেয়া হয়েছিল গড়ে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। আর সেই সময় দেশে সব থেকে বেশি অলস টাকা ব্যাংকগুলোতে পড়েছিল যার পরিমাণ ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৬ কোটি।

 

গত তিন চারদিনের গুজবের কারণে ব্যাংক থেকে মানুষ বেশি টাকা তুলেছে। সে হিসেবে ব্যাংকে তারল্য সংকট ভয়াবহ হওয়ার কথা। যদি ভয়াবহ হতো তাহলে কলমানিতে টাকা নেয়ার পরিমাণ বাড়ত। গত চারদিনের ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা গড়ে কলমানি নিয়েছে। এর মধ্যে ৯ নভেম্বর সব থেকে বেশি, সেদিন ছিল ৯ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা কলমানি, ১০ নভেম্বর ছিল ৭ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, ১৩ নভেম্বর ছিল ৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ও গত ১৪ নভেম্বর ছিল ৫ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। দেশের ব্যাংকগুলোতে ২০২০ সালের চেয়ে তরল টাকা বা অলস টাকা বেশি এখন। দেশে গত বছর তিনেকের মধ্যে ১১ হাজার টাকার বেশি কলমানি একদিনে নেয়া হয়েছিল। ২৯ এপ্রিল ২০২০ সালে কলমানি নেয়া হয়েছিল ১১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকে টাকা নেই এই গুজবের ভিত্তি নেই। বরং অলস টাকার যথাযথ ব্যবহার দরকার, নতুন উদ্যেক্ততাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়া দরকার। এতে নতুন নতুন কর্মসূচি ও ভোগ বাড়বে। তাতে ম্যাক্রো ও মাইক্রো ইকোনমি দুটোরই প্রবৃদ্ধি হবে।

আর যদি গুজবে সবাই সাড়া দেয় তাহলে সব থেকে বিপদে পড়বে আমাদের গ্রামে থাকা দরিদ্র মানুষ। মূল্যস্ফীতি এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে ব্যাংক থেকে তোলা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মান ২০ হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। কারণ পুঁজিবাদে ব্যাংকের ওপর বিশ্বাস রাখাটা ‘ঈশ্বরে’ ওপর বিশ্বাস রাখার মতই। এই বিশ্বাস যদি কোনভাবে উবে যায় তাহলে একটি দেশ ফকির হতে বড়োজোর ২৪ ঘন্টা লাগবে। দেশের সব টাকা তখন কাঠাল পাতা হয়ে যাবে।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments