Tuesday, January 31, 2023
বাড়িopinionআইএমএফ কর্মকর্তা ভারতীয় আমলা রাহুল আনন্দ ক্ষমতাসীনদেরকে খুশি করার জন্য এটি করেছে...

আইএমএফ কর্মকর্তা ভারতীয় আমলা রাহুল আনন্দ ক্ষমতাসীনদেরকে খুশি করার জন্য এটি করেছে : শামসুল

Ads

বাংলাদেশ আইএমএফ এর থেকে রিন্ নেওয়ার জন্য আবেদন করে এবং সে কারনে আইএমএফ থেকে লোক এসেছিল বাংলাদেশে তবে আশার কথা হলো দেশের এই সংকটের মাঝে ঋণ দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছে তারা। তবে জানা গেছে এই ঋণ এর জন্য কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক -বিশ্লেষক শামসুল আলম। নিচে সেটি তুলে ধরা হল –

আইএমএফের ঋণ যেনো মামা বাড়ির মুড়ি মুরকি- কোঁচড়ে ভরে নিয়ে যাও- যেমনে ইচ্ছে খাও!
বাংলাদেশের বিনাভোটের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা (লোটাস) কামাল দাবী করেছেন, ”অবশেষে কিছু সুপারিশ দিয়ে শর্ত ছাড়াই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতেই এ ঋণের প্রথম কিস্তি পাওয়া যাবে। এর জন্য কোনো সুদ দিতে হবে না। পরবর্তী ছয় কিস্তিতে বাকি অর্থ আসবে। প্রতি কিস্তিতে অর্থের পরিমাণ হবে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার। এর জন্য বাংলাদেশকে সুদ দিতে হবে ২ দশমিক দুই শতাংশ হারে। ঋণের অর্থে চলমান বৈশ্বিক সংকটের মুখে থাকা দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জিএম আবুল কালাম আজাদ গতকাল বলেছেন, “আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশকে দেওয়া ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা রিজার্ভে যুক্ত হবে। তারপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে সিদ্ধান্ত নিয়ে খরচ করবে।”

এই হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তাদের হাল হকিকত। অথচ এরা ভালো করেই জানে, আইএমএফের ঋণ পাওয়ার বিষয় এখনই চুড়ান্ত হয়নি, কেবল স্টাফ লেভেলে প্রথম মিটিংটি হয়েছে। আইএমএফ বোর্ড সভায় ঋণ প্রস্তাব ওঠার আগে দফায় দফায় এরকম স্টাফ -লেবেল মিটিং হবে আরও।

এ এক অদ্ভুদ দেশ- যার যা খুশি বলে বেড়ায়, ঠিক হোক বা না হোক! উন্মাদের মত বয়ান দিয়ে বেড়ায় দায়িত্বশীলরা।
রাহুল আনন্দ, একজন ভারতীয় ব্যুরোক্রেট, যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান। তো বাংলাদেশ যখন রিজার্ভ সংকটে পড়ে তখন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বিনাভোটের সরকার আইএফএফের কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ঋণ চায়। ভারতীয় সাবেক আমলা IMF কর্মকর্তা রাহুল আনন্দকে ঢাকায় ডেকে আনা হয়। রাহুল ঢাকায় এসে বাংলাদেশী কর্মকর্তাদের সাথে অন্তত ৩২টি মিটিং করে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে সংস্কারের পরামর্শ দেন। যাওয়ার পথে রাহুল সাংবাদিকদের জানিয়ে গেছেন, ৪.৫ বিলিয়ন ঋণ নিয়ে স্টাফ লেবেলে সমঝোতার কথা।

তবে আইএমএফ হেডকোয়ার্টার থেকে প্রেস রিলিজ দিয়ে জানানো হয়, ১৫ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সফর শেষ করে রাহুল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণভাবে তার নিজস্ব মতামত, কোনো অবস্থাতেই তা আইএমএফ বোর্ডের বক্তব্য নয়। বাংলাদেশ সফর শেষে রাহুল আইএমএফ বোর্ডের কাছে তার রিপোর্ট দাখিল করবেন।

Dhaka, Bangladesh: End-of-Mission press releases include statements of IMF staff teams that convey preliminary findings after a visit to a country. The views expressed in this statement are those of the IMF staff and do not necessarily represent the views of the IMF’s Executive Board. Based on the preliminary findings of this mission, staff will prepare a report that, subject to management approval, will be presented to the IMF’s Executive Board for discussion and decision.

At the request of the Government of Bangladesh, an International Monetary Fund (IMF) mission led by Mr. Rahul Anand visited Dhaka from October 26 to November 9, 2022, to discuss the IMF’s support for Bangladesh and the authorities’ comprehensive economic reform agenda. Bangladesh’s request is part of the authorities’ measures to cushion its economy from the economic disruptions caused by the ongoing war in Ukraine and to manage macroeconomic risks posed by climate change.

একটা স্টাফ লেভেলের একটা মিটিংয়ে তারা নীতিগতভাবে একমত পোষণ করছে যে ঋণ দেওয়া যেতে পারে। তাই বলে স্টাফ লেভেলের মিটিংয়ে কোন ঋণ বরাদ্দ করে না আইএমএফ। আইএমএফের স্টেটমেন্টে বলেছে, এরকম স্টাফ লেবেল মিটিং আরও হবে। এর অর্থ ধরে নেওয়া যায়, ঋণ প্রস্তাব আরও বিচার-বিশ্লেষণ করতে আবারও আসবে তারা, একবার নয় হয়তো বার বার। তারপর বোর্ড অফ ডাইরেক্টরস মিটিংয়ে এটা যদি অ্যাপ্রুভ হয়, তাহলেই কেবল বলা যাবে আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশ পেয়েছে। তার আগে নয়।

পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে, রাহুল আনন্দের বক্তব্য ছিল তার নিজস্ব, এবং তিনি বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরকে খুশি করার জন্য তাদের পক্ষ হয়েই আগ বাড়িয়ে স্টেটমেন্ট করেছেন, যেটা ভারতীয়রা বরাবর করে থাকে। লক্ষ্য করুন আজ থেকে চার মাস আগে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, “বাংলাদেশ সংকট পরিস্থিতির মধ্যে নেই”।

shorturl.at/ijtxO অথচ এরপরে বাংলাদেশে রিজার্ভ এবং ডলার সংকট চরমে ওঠে, তেল ও জ্বালানী কেনার অর্থ নাই, প্রধানমন্ত্রী বার বার সতর্ক করছেন, দেশে দুর্ভিক্ষ আসতেছে। যার অর্থ দাড়ায়, রাহুল আনন্দ ঢাকার অবৈধ সরকারের চাহিদামত স্টেটমেন্ট দিয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে সচেষ্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আজাদের বক্তব্যে মনে হয়েছে, তিনি আইএমএফ ঋণ সম্পর্কে জনগনকে সঠিক তথ্য দিতে চান না। তিনি কি করে ঋণকে রিজার্ভে ঢোকাবেন, আর তা ইচ্ছেমত খরচ করবেন, তা পরিষ্কার নয়। এই ক্ষমতা বা এখতিয়ার কি তাদের আছে? অনেকের দাবী, ব্যালেন্স অব পেমেন্টে সুবিধা হবে এই ঋণ। কিন্তু এই আশা সঠিক নয়, কেননা আইএমএফ খাতভিত্তিক অর্থ দেয়। তাদের এক খাতের ঋণ অন্য খাতে ব্যয় করার কোনো সুযোগ নাই। ঋণের শর্তানুসারে এই টাকা ব্যালেন্স অফ পেমেন্টে খরচ করার কোন সুবিধে একেবারেই নেই। অর্থাৎ সোজা কথায়, ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের ক্ষেত্রে এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।
তবে এটাও জানা কথা, আইএমএফের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি, সংস্থাটিতে তাদের অবদান ১৬ ভাগ। তাই কেবল আমেরিকা যা চাইবে সেভাবেই ঋণপ্রদানের সিদ্ধান্ত আসবে। আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে কি চায় সেটা কারো অজানা নয়।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments