Saturday, February 4, 2023
বাড়িopinionতাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি, ছেলে বিয়ে দিয়েছে শেখ হেলালের বোনের পরিবারে,তাই চুক্তিও...

তাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি, ছেলে বিয়ে দিয়েছে শেখ হেলালের বোনের পরিবারে,তাই চুক্তিও চলবে লাইফ লং:শামসুল

Ads

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে কিনেছেন ১৪ টি বাড়ি। সব বাড়ির দাম টাকার অঙ্কে হাজার কোটি ছাড়াবে। সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম করে দেশ থেকে অর্থ পাচার করে তিনি এসব বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক শামসুল আলম। নিচে সেটি তুলে ধরা হল –

ওয়াসার তাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!
– সমকাল পত্রিকার লীড। তাকসিম বাংলাদেশ লুট করে হাজার কোটি টাকা মূল্যের এসব বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কে এই তাকসিম এ খান? ১৩ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক ওয়াসার এমডি। তাকসিম হলেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক মহান পুরুষ, যিনি একজন রাশিয়ান ইঞ্জিনিয়ার হয়েও দেশের হাজার হাজার প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে গত ১৩ বছর ধরে ওয়াসার এমডির পদ আঁকড়ে আছেন! এক এক করে ৬ বার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ লাভ করেছেন!

২০০৯ সালে যখন তাকসিমকে প্রথমবার নিয়োগ দেয়া হয়, তখন ওয়াসার এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, সে শর্তের কোনোটিই তাকসিম এ খানের ছিল না। তারপরও সে নিয়োগ পায় ৩ বছরের জন্য, পরপর আরও ৫ বার পূণঃনিয়োগ যোগাড় করতে সক্ষম হন তাকসিম। গেলো বার ঢাকা শহর যখন পানির তলায়, তখন বুঝা যাচ্ছে, তাকসিম নগরবাসীকে কিভাবে ধোকা দিয়েছেন। অথচ প্রতিবার তার চুক্তি শেষ হয় বর্ষার সময়, রাস্তা ঘাট কেটে পরো শহর ছ্যাড়াব্যাড়া, তখন তাকসিম ভাব ধরে, আমি আর চুক্তি চাই না, কিন্তু ঠিকই বড় অফিস ম্যানেজ করে টুস করে চেয়ারে বসে পড়েন যোগ্যতাহীন তাকসিম!

শোনা যায়, একটি বিশেষ ভবনে সাংবৎসরের ভাগ পৌছে দেয়াই তাকসিমের এই অসীম ক্ষমতার উৎস। তিনি উপযুক্ত যায়গায় সঠিক মাত্রার তৈল প্রায়োগে সর্বাধিক তৈল বের করার একটি আজীব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার কাছে বোর্ড এবং মন্ত্রণালয় সবাই অসহায়! সম্ভবত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তৈল প্রয়োগের পদ্ধতিটি রপ্ত করেছেন ভালোই__”কৌশল করিয়া এক বিন্দু দিলে যত কাজ হয়, বিনা কৌশলে কলস কলস ঢালিলেও তত হয় না!”

তাকসিমকে নিয়ে রহস্যের শেষ নাই! একজন আমেরিকান নাগরিক হয়েও বাংলাদেশের একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের (ওয়াসা) প্রধানের পদে বার বার (৬ বার) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া শুধু অনৈতিকই নয়, অবৈধও বটে। দেশের আমলা এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে কেউ এই পদের জন্য উপযুক্ত নয়, তা পরিষ্কার বলে দিচ্ছে সরকার! স্বাধীন দেশের জন্য এটি অপমানজনক! শোনা যায়- তাকসিমের জন্য একটি বিশেষ ভবনের দরজা সবসময় উন্মুক্ত। কামাইয়ের ভাগবাটোয়ারা ছাড়াও কালো টাকা বিদেশে পাচারের অন্যতম একটি রুট হয়ে কাজ করেন বলে জানায় ঐ সুত্র।

 

গত ১৩ বছরে তাকসিম ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে নিয়েছেন নিজের বেতনও। করোনার মহামারির মধ্যে এক লাফে তার বেতন বাড়ানো হয়েছে গুণে গুণে পৌনে দুই লাখ টাকা। তার মাসিক বেতন এখন ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। গত ১২ বছরে এই বেতন বেড়েছে ৪২১ শতাংশ! মাঝখান থেকে ওয়াসাকে ২১০০০ কোটি টাকার বিদেশী ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন!

গত বছর ২ হাজার কোটি টাকার বেশি হিসাবের গোলমাল পাওয়া যায় ওয়াসায়, তাতে কিছুটা ঝামেলা হলেও পরে সব ম্যানেজ করে ফেলে। নিয়োগ ও প্রকল্প নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ গড়িয়েছে দুদক পর্যন্ত। টিআইবি বলছে, তাকসিম খানের আমলে ‘দুর্নীতির অভূতপূর্ব বিস্তার’ ঘটেছে!

ক্ষমতার এক নম্বর ব্যক্তির ক্লাশমেট বান্ধবী নিলুফার আহমেদ, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েও প্রায় ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ডিজির দায়িত্বে ছিলেন (শেষের দিকে বহু বছর চুক্তিতে), বর্তমানে সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী পদে চুক্তিতে নিযুক্ত আছেন। বাসায় তিনি বান্ধবীকে সঙ্গ দেন, একসাথে খেলাধুলাও করে থাকেন। এই নিলুফার আহমেদের ছোট ভাই হচ্ছে তাকসিম। বলা যায় পরিবারের সদস্য। তাছাড়া তাকসিম ছেলে বিয়ে দিয়েছে শেখ হেলালের বোনের পরিবারে। সরাসরি আত্মীয় হয়েছেন, তাই চুক্তিও চলবে লাইফ লং?

গেলো বছর তাকসিম একটা আবদার করেছিলেন, তিনি আমেরিকায় থেকে বাংলাদেশে অনলাইনে অফিস করতে চান, যেমনভাবে মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী বাসায় বসে বসে অনলাইনে কেবিনেট সভা করেন, একনেক সভায় প্রজেক্ট পাশ করেন, দেশময় ফিতা কাটেন, আবার লেফট রাইট পার্টির সেল্যুটও নেন! ঐরকম তাকসীমও একটা সুযোগ চেয়েছিল আর কি!

সেই তাকসিমের একটি-দুটি নয়, ১৪ বাড়ি! দেশে নয়, সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে তাকসিম এ খান কিনেছেন এসব বাড়ি। সব বাড়ির দাম টাকার অঙ্কে হাজার কোটি ছাড়াবে। দেশ থেকে অর্থ পাচার করে তিনি এসব বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি কেনার অর্থের উৎস ও লেনদেন প্রক্রিয়ার তথ্য তালাশে নেমেছে ইন্টারপোলসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। বিপুল পরিমাণ অর্থে একের পর এক বাড়ি কেনার ঘটনায় দেশটির গোয়েন্দা তালিকায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকসিমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments