Monday, January 30, 2023
বাড়িNationalদীর্ঘদিন এই অপমান সহ্য করেছি, সামর্থ্য থাকলে ১০ বছর আগেই পুলিশের চাকরি...

দীর্ঘদিন এই অপমান সহ্য করেছি, সামর্থ্য থাকলে ১০ বছর আগেই পুলিশের চাকরি ছাড়তাম: এসপি আব্দুল্লা

Ads

এবার পুলিশের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এই নিয়ে আবারো শুরু নানান আলোচনা। এই কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ সদর দফতরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরী এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার মো: মির্জা আবদুল্লাহ বাকী ও দেলোয়ার হোসেন মিয়া।

মির্জা আবদুল্লাহ বাকী একজন বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।

তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পাবনা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জে এসপির দায়িত্বে ছিলেন। আবদুল্লাহ বাকী রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক বা পিপিএম (সেবা) পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার পদোন্নতি হয়নি। তার ব্যাচের কর্মকর্তারা এখন অতিরিক্ত আইজি ও ডিআইজি।
দেলোয়ার হোসেন মিয়া ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরী বিসিএস দ্বাদশ ব্যাচের কর্মকর্তা। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি আমলে জামালপুল ও মুন্সীগঞ্জ জেলার এসপি ছিলেন। শহীদুল্লাহ চৌধুরী পিপিএম পদকপ্রাপ্ত ড. দেলোয়ার হোসেন বিএনপি আমলে একাধিক জেলার এসপিও ছিলেন। তাদের দুজনকেই এসপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল্লাহেল বাকী ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরী ১ জানুয়ারী, ২০২৪ এবং দেলোয়ার হোসেন মিয়া ৪ জুন, ২০২৬-এ অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ ও জননিরাপত্তা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি দুটি সংস্থা থেকে এসব কর্মকর্তার বিষয়ে গোপন প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা কয়েকদিন আগে দেশের বাইরে গেছেন। গোপনীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের অবসরে বাধ্য করা হতে পারে। কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি দিতে না পারায় সরকার তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।

মির্জা আবদুল্লাহ বাকী গতকাল রাতে বলেন, “সারাদিন অফিসে ছিলাম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে। একজন সাংবাদিক ফোন করে খবর দেন। শুনে অবাক হয়েছিলাম। যাই হোক, এখন চাকরি নেই, এটাই সত্য। কিন্তু আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আমি সরকারের বিরুদ্ধে নই, কোনো দলের সদস্যও ছিলাম না।পুলিশে যোগ দেওয়ার পর পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করেছি।’

কেন তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। বিরোধী দলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ১০ দিন আগে সরকারি সফরে দুবাই গিয়েছিলাম। আমি সব সময়ই সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি।’

মির্জা আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, আমার জুনিয়ররাও পদোন্নতি পেয়ে উপরে উঠে গেছে। তাদের আমাকে স্যার ডাকতে হবে। অনেকদিন এই অপমান সহ্য করতে হয়েছে। আমার যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকত, তাহলে আমি ১০ বছর আগে চাকরি ছেড়ে দিতাম। ‘

অন্য দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ তিন এসপিকে অবসরে নিয়ে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারি করে। জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮ (অ্যাক্ট নং ৫৭ ) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর মঞ্জুর করা হয়েছে।” এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ‘

৪৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী ২৫ বছর চাকরি করলে সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়া যে কোনো সময় চাকরি থেকে অবসর নিতে পারে। তবে এর জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হবে।

গতকাল রাতে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তারা ঠিকমতো কাজ করে না। ফেসবুকে অপপ্রচার ছড়ায়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এসব অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” আইন অনুযায়ী তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে।’

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি তাদের আগের চাকরির রেকর্ড তুলনা করে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

প্রসঙ্গত, তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন অবসরে পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং এ ব্যাপারে স্বরাষ্টমন্ত্রী জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে তারা ঠিকমতো কাজ করে না।

 

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments