Saturday, February 4, 2023
বাড়িAbroadপান্তা ভাত খেয়ে ৩ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন মালয়েশীয় প্রবাসী

পান্তা ভাত খেয়ে ৩ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন মালয়েশীয় প্রবাসী

Ads

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে থাকেন কর্মের সন্ধানে। পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে বাংলাদেশিরা তাদের প্রিয়জনকে সুখী ও শান্তিতে রাখতে বিদেশে পাড়ি জমান। বিগত বিছানা, ঘাম. শরীর ভালো হোক বা খারাপ হোক না কেন। বিদেশে তাদের একটাই লক্ষ্য কিভাবে একটু বেশি আয় করা যায়। কিভাবে বাড়িতে আরো টাকা পাঠাতে হয়

আর তাই নিয়মিত আট ঘণ্টা কাজের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন তিনি। যতটা খাবেন না ততটা খেয়ে টাকা বাঁচান। মাস শেষে বেতনের একটা বড় অংশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এমনই এক প্রবাসীর সন্ধান মিলেছে মালয়েশিয়ায়। টাকা বাঁচানোর জন্য সে ভাতের সাথে শুধু একটি পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ খায়। তিনি তার সংগ্রহ করা অর্থ দেশে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেন। প্রবাসীর অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) স্থানীয় একটি পত্রিকায় ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ খাচ্ছেন ওই প্রবাসী। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রবাসীর নাম ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক প্রশ্নের জবাবে ওই প্রবাসী বলেন, ভাতের সঙ্গে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ খেয়ে দিন কাটে তার। আর সে রাতে শসা খায়। টাকা বেশি খরচ হবে বলে মাছ-মাংস খাবেন না। মালয়েশিয়ায় আসার শুরুতে ভালো খেললেও পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা ভেবে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেন।

এক কামড় পেঁয়াজ ও এক কামড় সবুজ মরিচ দিয়ে তিনি প্রতি মাসে ৫ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ার মুদ্রা) আয় করেন। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি। তিনি নিজের খরচের জন্য আয় থেকে মাত্র ৩০০ রিঙ্গিত রেখেছিলেন। বাকিটা তিনি তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে তিনি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা রেমিট্যান্স পাঠান।

খাওয়ার সময় ওই প্রবাসী আরও জানান, পরিবার ছেড়ে গত ১৯ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করছেন। আর এ সময় তিনি দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, দেশের সব টাকা তিনি জমিয়ে রেখেছেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তার কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনে এত অল্প বয়সে মালয়েশিয়ায় এসে আপনি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা থেকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিটি পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, পরিবারের মুখে সচ্ছলতার হাসি ফুটানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে অনেক বেকার তরুণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে থাকে বিশেষ করে মধপ্রাচ্চের দেশগুলোতে এই প্রবাসীর সংখ্যা বেশি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা উপার্জন করে নিজেদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments