Monday, January 30, 2023
বাড়িopinionরাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন, স্লো পয়জনিংএ শেষ করা হয়েছিল এরশাদকে :...

রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন, স্লো পয়জনিংএ শেষ করা হয়েছিল এরশাদকে : শামসুল

Ads

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর সিএমএইচ এ চিকিৎসা নিয়ে নতুন তথ্য উঠে এসেছে যদিও এই তথ্য আগে থেকেই চৰ্চিত ছিল সেটি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে আলোচনা। এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক এবং বিশ্লেষক শামসুল আলম। নিচে পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল –

জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। স্বৈরাচার হিসাবে সুপরিচিত। এখন মরহুম। তাঁর একান্ত সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম বোমা ফাটিয়েছেন, এরশাদ সাহেব ক্যান্সার রোগি না হওয়া সত্বেও তাকে ঢাকা সিএমএইচ থেকে ক্যান্সারের অষুধ দিয়ে লিভার নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে তার মৃত্যু হয়। মাঝখানে সিঙাপুরের ডাক্তাররা পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখতে পেয়েছেন, ক্যান্সার না হলেও এরশাদকে ক্যান্সারের ওষুধ দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। স্ত্রী রওশন সরকারের কাছে জাতীয় পার্টিকে বিক্রি করে দিয়েছিল এবং এরশাদকে স্লো-পয়জনিং করার সাথেও জড়িত ছিলেন।

এর আগে ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচনে এরশাদ সাহেব যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে না, এরপরে ভারতের বিদেশ সচিব সুজাতা সিং ঢাকায় আসেন ঐ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে, এবং জেনারেল এরশাদকে চাপ দেন নির্বাচনে অংশ নিতে, নইলে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় যাবে বলে সতর্ক করেন। এর পরের ধাপে এক রাতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা সুস্থ এরশাদকে তুলে নিয়ে যান, এবং অসুস্থ সাজিয়ে সিএমএইচে বন্দী করে রাখেন প্রায় মাসখানেক! এ সময়ের মধ্যে ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। জাতীয় পার্টিকে অবৈধভাবে নির্বাচনে নেন এরশাদ পত্নী রওশন।

এরশাদকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর সাথে ঠেলে দেয়ার ঘটনার সাথে রওশন ছাড়াও আরও জড়িত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু এবং এরশাদের একান্ত সচিব মেজর খালিদ। পরে শেষের দু’জন করোনা আক্রান্তের ভুল ট্রিটমেন্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সাংবাদিক ড. কনক সারোয়ার মঞ্জুরুল ইসলামের এ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র, বেইমানী, মোনফেকির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন করলেন- স্লো পয়জনিং!

তবে এরশাদ সাহেবের এমন পরিণতিতে অবাক হই না। তার গোটা জীবনটাই ভরে ছিল মোনফেকি, শয়তানি, ষড়যন্ত্র, খুনখারাবি দিয়ে। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন সেনাপ্রধান এরশাদ, জেনারেল মঞ্জুরকেও তিনি হত্যা করান। রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যার বিচার হলে এরশাদের ফাঁসি হতো। সেটা তো আর হয়নি। উল্টো তাকে হত্যা করেছে তারই চার দশকের ষড়যন্ত্রের সাথীরা। এখন এরশাদের উত্তরসুরি ও দলের লোকেরা পারলে হত্যা মামলা করে হত্যাকারীদের বিচার করুক।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments