Monday, January 30, 2023
বাড়িConutrywideনারীকে থানায় নয় হোটেলে আসতে বলা সেই এসআইকে দেওয়া হল শাস্তি

নারীকে থানায় নয় হোটেলে আসতে বলা সেই এসআইকে দেওয়া হল শাস্তি

Ads

এবার পুলিশের কাছে সেবা প্রত্যাশী এক নারীর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। নিজের সমস্যার কথা জানিয়ে সাহায্যের জন্য তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল কিন্তু তিনি সেখানে উল্টো অপমানিত হয়েছেন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সেবাপ্রত্যাশী এক নারীকে থানায় নয় হোটেলে আসতে বলায় গালিগালাজ করা হয়েছে। রতন মিয়া নামে এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজ করা হয়েছে। রোববার (১৬ অক্টোবর) রাতে তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া গ্রামের সেতারা বেগম নামে এক নারী থানায় অভিযোগ করলে এসআই রতন মিয়া বাজারের রেস্টুরেন্টে বসে সমাধানের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি রাজি না হলে রতন মিয়া থানায় ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় থানার গেটে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেতারা বেগম চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আকবর হাজী বাড়ির মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী। তিনি বলেন, আমার ছেলে নুরনবীকে (২৭ সাত মাস আগে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেহের আলী কমলা বাড়ির সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম সৌদি আরবে নিয়ে যায়। এর জন্য আমি তাকে ৪ লাখ টাকাও দেই। আবাসিক হোটেলে চাকরি দেবেন বলে বলা হয়েছিল। বেতন হবে ১ হাজার ৮০০ রিয়াল।

কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর আমার ছেলেকে চাকরি না দিয়ে তিন মাস একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। গত সাত মাস ধরে চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বারবার বলার পর সে আকামা করতে আরও ১০০০ রিয়াল নিল। পরে প্রতারক সাইফুল আমার ছেলে খুরুজকে (অস্থায়ী) আকামা দেয়। দেখে কেউ তাকে চাকরি দেয় না।

মহিলার দাবি, ১৫-২০ দিন আগে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাবা-মা ও স্ত্রীকে বিবাদী করা হয়। এসআই রতন মিয়াকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসআই রতন সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কাছে ৫০০০ টাকা চাইলে তিনি ২০০০ টাকাও দেন। কিন্তু গত শুক্রবার প্রথম বৈঠকে আসামিরা কেউ থানায় আসেননি। দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য এসআই রতন আসামিদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন।

এরপর গত শনিবার সন্ধ্যায় এসআই ফোনে জানান, থানায় কোনো বৈঠক হবে না। বসুরহাট বাজারের হক হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আমি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানালে এসআই আমাকে ফোনে গালিগালাজ করেন। তখন ফোনে বললাম, থানায় অভিযোগ করেছি, থানায় মিটিং হবে। তখন এসআই আমাকে থানার গেটে আসতে বলেন।

থানার গেটে ঢুকেই আবারও অশ্রাব্য ভাষায় চিৎকার করে সাধারণ মানুষের সামনে অপমান করেন। যা ভাষায় বলা যায় না। পরে কাঁদতে কাঁদতে থানা থেকে চলে যাই। আমি কল্পনাও করতে পারি না একজন মা তার ছেলের সামনে ডিউটিতে থাকা একজন পুলিশ অফিসারের দ্বারা এভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন।

নারীকে থানায় না আসতে বলে হোটেলে এবং তাকে গালিগালাজের প্রসঙ্গে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, অভিযোগ পেয়ে রোববার রাতে এসআই রতন মিয়াকে পুলিশ লাইনে অবরুদ্ধ করা হয়। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments