Tuesday, January 31, 2023
বাড়িConutrywideসৌদি থেকে ফিরে বাড়ি না গিয়ে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামে রউফ,অবশেষে হলেন...

সৌদি থেকে ফিরে বাড়ি না গিয়ে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামে রউফ,অবশেষে হলেন গ্রেফতার

Ads

জিহাদ মুসলিম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। তবে বর্তমানে এই জিহাদ নিয়েই ছড়িয়ে পড়েছে অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড। আর বাংলাদেশে এ সব ‘তথাকথিত জিহাদ’ একেবারেই নিষিদ্ধ। তবে এখনো অনেক জায়গায় গোপনে চলছে এ সব কর্মকান্ড। যার প্রমান মিললো আবারো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অনলাইনে আল-কায়েদার মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ‘কথিত জিহাদ’ করার পরিকল্পনা ছিল আব্দুর রউফের। সেই লক্ষ্যে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বাড়ি ফেরেননি।বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে যান জঙ্গি শিবিরে। সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সিআইটিটিসি) এ তথ্য জানান। আসাদুজ্জামান।

এর আগে রোববার রাজধানীর সয়দাবাদ বাস টার্মিনাল, চট্টগ্রাম ও টেকনাফ থেকে এই মতাদর্শের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ (সিটিটিসি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সৌদি প্রবাসী দলের নেতা আব্দুর রউফ, সাকিব, শামীম হোসেন, নাদিম শেখ, আবছার ও সাঈদ উদ্দিন।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, গ্রেফতারকৃত আবদুর রব অনলাইনে সবাইকে একত্রিত করে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, জিহাদ ইত্যাদি বিষয়ে সমন্বয়ক হিসেবে আলোচনা করতেন। পরে, তারা অনলাইনে বিদেশে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি সহকর্মীর সাথে দেখা করে এবং অডিও-ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে। ওই ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করে সবাইকে হিজরত ও জিহাদ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

পরে ওই সদস্য লিবিয়ায় অবস্থানরত আরেক বাংলাদেশি ও টেকনাফের স্থানীয় একজনের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দেন। যৌথ আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আব্দুর রব, শামীম, সাকিব, নাদিম, সাঈদসহ যারা অভিবাসনে ইচ্ছুক তারা প্রথমে টেকনাফে গিয়ে তাদের স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে তারা বাংলাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করবে।

তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সবাইকে টেকনাফ যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক ১৬ নভেম্বর সাকিব ও নাদিম টেকনাফে গিয়ে স্থানীয় সহযোগী অভিরকে আটক করে টেকনাফে একটি ভাড়া বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে।

গ্রেফতার আব্দুর রব ছুটি না থাকায় সময়মতো বাসায় না আসতে পারলে তারা টেকনাফের বাসায় অবস্থান করে অপেক্ষা করতে থাকেন। ২২ নভেম্বর গ্রেফতার আব্দুর রব দেশে এলে তার সহযোগী শামীম তাকে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য সহযোগীদের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন স্কুলের পরামর্শ দেন। দুই দিন পর তারা দুই গ্রেপ্তার সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং অন্য সহযোগীদের জন্য অপেক্ষা করে।

সিটিটিসি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন অ্যাপে যোগাযোগ করে গ্যাং গঠন করত। স্থানীয় সহযোগীদের কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে জঙ্গিবাদের জন্য টেকনাফে চলে আসেন।

তারা সংগঠিত হচ্ছিল, সশস্ত্র জিহাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংগঠক ছাড়া এটা কি সম্ভব? – গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, তারা এখনো সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করতে পারেননি। এটা ছিল তাদের প্রথম প্রচেষ্টা। তারা হিজরত করছিল, নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র জিহাদ নিয়ে আলোচনা করছিল। প্রথমে তাদের খুব বেশি সদস্যপদ নেই, তারা ধীরে ধীরে তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ায়। তারা টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

গ্রেপ্তার জঙ্গিদের আল-কায়েদার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা আল-কায়েদার আদর্শ অনুসরণ করে। আমরা খুঁজে পেয়েছি যে তারা অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও সামগ্রী দেখে আদর্শগতভাবে অনুপ্রাণিত হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত,দেশের বর্তমান সরকার এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের কর্মকান্ডে একেবারেই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে থাকে। আর এই লক্ষে প্রায়ই দেখা যায় এ ধরনের নানা অভিযানে গ্রেফতার করা হয় নতুন করে গড়ে ওঠা সব জঙ্গিদের এবং তাদের মদদদারদের। আর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments