Saturday, February 4, 2023
বাড়িopinionপরীমনির নাগরদোলায় উঠে একবার উপরে উঠেছেন নিচে নেমেছেন, আর চোখ বুজে বলেছেন...

পরীমনির নাগরদোলায় উঠে একবার উপরে উঠেছেন নিচে নেমেছেন, আর চোখ বুজে বলেছেন ওয়াও :উজ্জ্বল

Ads

বর্তমানে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে চিত্রনায়িকা পরিমনির সাথে তার স্বামী অভিনেতা শরিফুল রাজ্যের বিচ্ছেদ যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সব জায়গায় তুমুল আলোচনা উঠেছে। এই প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক গুলজার হোসেন উজ্জ্বল। নিচে সেটি তুলে ধরা হল-

২০২২ সালে প্রচুর ফেসবুক সেলিব্রেটিদের পোস্ট পড়েছি। একটা উপলব্ধি হয়েছে যে ফেসবুক সেলিব্রেটিরা টকশোর বুদ্ধিজীবিদের মত। টকশোর বুদ্ধিজীবিরা যেমন কে কোন দিকে ছাতা ধরে কথা বলবে আমরা আগে থেকেই বলে দিতে পারি ফেসবুক সেলিব্রেটিরাও সেরকম।

কেইস স্টাডি হিসেবে আমরা পরীমনিকে নিতে পারি। পরীমনি ২০২২ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বোচ্চ আলোচিত চরিত্র। এ বছর সোশ্যাল মিডিয়া ছিল পরীমনিময়। কিছু পরীবাদী সেলিব্রেটিদের আমরা পেয়েছি। এরা মূলত বাংলাদেশের ফেমিনিস্ট ঘরানার সেলিব্রেটি। পরীমনি যেটাই করবেন সেটাই তাদের কাছে জাস্টিফায়েড। সেখানেই তারা নারীশক্তির প্রকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন, ইচ্ছাশক্তি ইত্যাদি খুঁজে পাবেন। আমরাও আগে থেকে বলে দিতে পারি এবার তারা কি বলবেন৷

পরীমনি যখন নাসির সাহেবের মত একজন নাগরিককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসালেন তখন সবাই বললেন “বেশ করেছে৷ এসব ক্লাবে যাওয়া পুরুষ মানুষ খুব খারাপ। ক্লাব কালচার কি ভাল নাকি? নষ্টামির আখড়া।” পরে যখন জানা গেল পরীমনি নিয়মিত বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে দাংগাবাজি করে তখন তারা বলল, “মেয়েটা কিউট আছে। ক্লাব কি কেবল বড়লোকের?”
পরীমনি যখন বনানীর বাসায় একা ছিলেন তখন সবাই বললেন পরীমনি একজন ‘একা নারী’। এই নগরে একজন একা সংগ্রাম করা নারী হলো পরীমনি। পরীমনি এক শক্তিশালী নারীর প্রতিমূর্তি। কারণ বিয়ে নামের শেকলকে সে কেয়ার করেনি। পুরুষের অধীন হবার জন্য সে জন্মায়নি। বিয়ে নামের ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানকে সে বৃদ্ধাংগুল দেখিয়েছে ।

পরীমনি যখন বিয়ে করল তখন তারাই বিয়ে জিনিসটার মধ্যে সৌন্দর্য খুঁজে পেল। কেউ কেউ লিখল ” কি দারুন মেধাবী মেয়েটি! কি ভাগ্যবতী! সব এলোমেলো করে আবার কেমন সময়মত গুছিয়ে নিল জীবনটাকে”! বিয়ে করে যে জীবন গোছানো যায় তাদের মুখে সেবারই প্রথম শুনতে পেলাম। রাজ-পরিমনীর বিয়ের ছবি দেখে বাংলাদেশের বিয়ে বিরোধী প্রগতিশীল নারীবাদীরা বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানকে সুন্দর ও সার্থক বলে মানতে শুরু করল।

যুগল ছবি দেখে বলল, “আহা কি সুন্দর জুটি!” রাজকে দেখে মনে হলো “এমন পুরুষ কজন পায়? এত্ত কেয়ারিং!!”
পরীমনির বেবি বাম্পের ছবিতে রাজ যেখানে পরীমনিকে জড়িয়ে ধরেছে সেখানে অনেকেরই আবেগের পারদ আকাশে উঠে গেছে। আহা এমন জুটি কে কবে দেখেছে! এত প্রেমময়! এত সুন্দর!

পরী যখন মীমকে জড়িয়ে রাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল তখন পরীবাদী সেলিব্রেটিরা বলল “মেয়েটা কি শার্প! কি ব্রেইন! সিনেমার প্রমোশনের জন্য একটা টুইস্ট মেরে দিল! ” এজ ইফ পরীমনি-রাজের সংসারে ভালবাসা ছাড়া আর কিছু নেই৷ নেগেটিভ কোন কিছু পরীমনির মধ্যে নেই। থাকতেই পারেনা। থাকলে সেটা আসলে নেগেটিভ মার্কেটিং। নাথিং সিরিয়াস৷

আজ যখন পরিমনী রাজকে মুক্ত করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার স্ট্যাটাস দিল তখনও পরীবাদীদের কেউ কেউ বলল “আপকামিং সিনেমার মার্কেটিং”। তারপর যখন দেখল ‘সত্যি সত্যি’ তখন বলল ” হাউ সুইট! মেয়েটার সাহস আছে।”
পরীমনি যখন বলল “ওটা অসুস্থ সম্পর্ক, ওকে টেনে নেবার দরকার কি”? তখন তারা বলল “তাই তো একটা অসুস্থ সম্পর্ক টেনে নেবার দরকার কি?”

দুইমাস আগে রাজকে যাদের কেয়ারিং হাজব্যন্ড বলে মনে হয়েছিল তারাই আজকে বলল ছেলেটা টক্সিক ছিল। সম্পর্কটা অসুস্থ ছিল।
এভাবেই ২০২২ সালে বাংলাদেশের নারীবাদ, প্রগতিবাদ অনেকখানিই পরীমনিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পরীমনির নাগরদোলায় চড়ে তারা একবার উপরে উঠেছেন, একবার নিচে নেমেছেন। আর প্রতিবারই চোখ বুজে বলেছেন ‘ওয়াও’।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments