Saturday, February 4, 2023
বাড়িEconomyহঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে এতো সোনা কিভাবে আসলো, উঠেছে প্রশ্ন

হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে এতো সোনা কিভাবে আসলো, উঠেছে প্রশ্ন

Ads

সম্প্রতি জানা গেছে নিলামের মাধ্যমে ২৫ কেজি সোনা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস। চলতি মাসেই শুরু হবে মোট ২৫ কেজি বা ২ হাজার ১৭০ বার সোনা বিক্রির প্রক্রিয়া। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে এত সোনা কোথা থেকে এল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বর্তমানে অস্থায়ী খাতে প্রায় ২,৯০০ কেজি এবং স্থায়ী খাতে ১৫৯ কেজি সোনা রয়েছে। এই স্থায়ী খাত থেকে ২৫ কেজি সোনা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোনা বিক্রির ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে দরপত্র কেনার সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংকে এত স্বর্ণ এল কীভাবে?

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক অবৈধ বা চোরাচালান করা সোনাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত গন্তব্য। অর্থাৎ জব্দকৃত স্বর্ণ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা হয়। যদি স্বর্ণ তার মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। অন্যথায়, জব্দকৃত স্বর্ণ মালিকানা লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে স্থায়ীভাবে জমা থাকবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব সোনা নিলামে বিক্রি করে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী খাতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ কেজি সোনা জমা থাকলেও এর মালিকানা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। যদিও মামলা নিষ্পত্তিতে অধিকাংশ রায় ব্যাংকের পক্ষে যায়। তাই বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে বিপুল পরিমাণ সোনার মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) পরিচালক এনামুল হক খান।

তিনি বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক আটক সোনা নিলাম করতে পারবে না। এবং প্রতিটি মামলা নিষ্পত্তি হতে ১০ -১২ বছর সময় লাগে। তাই আমরা অনেক আগেই নতুন আইনের দাবি জানিয়েছিলাম। যাতে জব্দ করা সোনা দ্রুত নিলামে তোলা যায়। পরবর্তীতে কোনো ব্যবসায়ী মামলায় জয়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে বাজার দরে সোনা কিনতে পারে। যদিও ৯৯ শতাংশ মামলায় সরকার জয়ী হয়।

সোনার নিলাম কীভাবে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে অনুযায়ী, নিলামে অংশ নিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের আপ-টু-ডেট ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট, মুসাক রেজিস্ট্রেশন, বিআইএন সার্টিফিকেট, স্বর্ণ ক্রয়, সঞ্চয় ও সরবরাহ লাইসেন্স, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যপদ, আর্থিক সংক্রান্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। সচ্ছলতা, আপ-টু-ডেট আয়কর প্রদানের শংসাপত্র, আবেদনকারী সংস্থা নিবন্ধিত। লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানির নিবন্ধন সার্টিফিকেট, মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধ এবং পরিচালকদের হালনাগাদ তালিকা জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৪ থেকে টো নভেম্বর পর্যন্ত আগ্রহী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ২ ,০০০ টাকা (অফেরতযোগ্য) জমা দিয়ে দরপত্রের সময়সূচী কিনতে পারবেন। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে নিলামে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করবেন। এ পর্যায়ে বিক্রি করা সোনার বার, অলংকার, টুকরো বা চাদর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। নিলামে অংশগ্রহণকারী যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে পারবে। এ জন্য স্বর্ণকার বা পরিদর্শক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যেতে পারেন। এই প্রদর্শনীর তৃতীয় কার্যদিবসে দরপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়াও দরপত্রে উদ্ধৃত মূল্যের আড়াই শতাংশ বায়না বা জামানত হিসাবে জমা দিতে হবে। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ ক্রয়ের আদেশ জারির পাঁচ দিনের মধ্যে সব টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করা হলে এবং স্বর্ণ সংগ্রহ করা না হলে বাংলাদেশ ব্যাংক দরদাতা প্রতিষ্ঠানের জামানত বাজেয়াপ্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা নিলামে বিক্রয়ের ঘটনা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং অনেকেই ভাবছে এত সোনা কোথা থেকে এল বাংলাদেশ ব্যাংকে। মূলত এই সকল সোনার অধিকাংশ আসে কাস্টমসের থেকে। বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা সোনা জব্দ করে তা ব্যাংকের কাছে রাখা হয়।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments