Tuesday, January 31, 2023
বাড়িConutrywideসফর থেকে বাদ পড়ার পরের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসপাতালে যাওয়া কিসের আলামত, প্রশ্ন...

সফর থেকে বাদ পড়ার পরের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসপাতালে যাওয়া কিসের আলামত, প্রশ্ন উঠছে একটাই

Ads

বাংলাদেশের আলোচনায় এখন একটি বিষয়ই আর তা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই সফর থেকে বাদ পড়া।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে তার অবস্থানকে দুর্বল করছে কি না, প্রশ্ন উঠেছে।

অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর।

তারা মনে করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওই দেশের শীর্ষ বৈঠক থেকে বাদ দেওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার নেতৃত্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যেও মোমেনের জন্য মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন বা কাজ চালিয়ে যাওয়া কতটা সহজ হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

দলের একাধিক নেতা জানান, অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে সফর না করার কথা বলা হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে মোমেনের যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে তাও বাস্তব।

আর এই প্রেক্ষাপটে ভারত সফর থেকে মোমেনের বাদ পড়ার ঘটনায় মোমেনের অবস্থান কতটা নড়বড়ে হয়ে উঠেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।

মোমেন গত মাসে চট্টগ্রাম সফরে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন যে তিনি সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে ভারত সরকারকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

এই মন্তব্য নিয়ে তিনি উত্তপ্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। আর তখনই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর থেকে বাদ পড়েন তিনি।

তবে গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের পর এ খবরও বেরিয়ে আসে।

আগের দিন ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদায়ের ঘোষণা দেন মোমেন।

কেন এত আলোচনা?
সফরসঙ্গীর তালিকায় তার নামও ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ওই সফরে মোমেনের অনুপস্থিতির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে এক ধরনের সংশয় ছিল। ফলে সফর থেকে মোমেনের বাদ পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

পরে অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ ও অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে তিনি নিজে সফরে যেতে পারেননি। ঘটনার পরদিন মোমেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান বলে জানা গেছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখন অসুস্থতার কথা বলা হলেও এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বিবিসিকে বলেছেন, অসুস্থতার কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেষ মুহূর্তেও গুরুত্বপূর্ণ সফর বাতিল করতে পারেন।

কিন্তু কয়েকদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই বিব্রত করেছে, তাই তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সে কারণেই বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে মোমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনকে সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ।

অতএব, তিনি মনে করেন যে পরিস্থিতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তার কর্মক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মোমেনের অবস্থানকে দুর্বল করবে।

আসাদ উল্লেখ করেন, তিনি যেমন মনে করেন, তাদের দলের মধ্যেও একই ধরনের আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বলছেন, অনেক শাখা-প্রশাখা বাড়ছে।’

বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতার মতোই ভাবছেন বলে মনে হচ্ছে।

তারা মনে করেন, অসুস্থ হয়েও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরে যেতে পারেননি। এই যুক্তি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য।

মন্তব্যের কারণেই নানা প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিনিয়র মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের মন্তব্যের কারণে অনেক প্রশ্ন উঠছে।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি কিছু বিবৃতি দিয়েছেন এবং তা নিয়ে অনেক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ভারত সরকারও এটাকে ভালোভাবে নেয়নি বলে শুনেছি।’

‘দলের তরফেও এর জন্য আমাদের সমালোচনা করা হয়েছে। এটা বাস্তব এবং সত্য,’ মন্তব্য করেন ড. রাজ্জাক

তবে একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসুস্থতার কথাও শুনেছেন বলে জানান তিনি। ‘অসুস্থ হলে সে নাও যেতে পারে।’

তবে পরিস্থিতি যেভাবে দাঁড়িয়েছে, মোমেন কি আগের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, নাকি বর্তমান পরিস্থিতি তার অবস্থানকে দুর্বল করবে? এসব প্রশ্নও উঠছে ওয়ামী লীগের মধ্যে।

এ বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলী বলে মনে হয় ড. রাজ্জাক

তিনি বলেন, তাদের সরকারের সহযোগিতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগের মতোই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি তাকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন) সেভাবে পথ দেখান তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যেহেতু অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কাজ করতে হয়, সেহেতু মোমেনের সেই দায়িত্ব পালনে কোনো বিতর্কের প্রভাব পড়বে কি না তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোমেনের বর্তমান পরিস্থিতি তার অবস্থান কিছুটা নাজুক করে দেবে। তবে তা সাময়িক হতে পারে।

তারা মনে করেন, সরকারের সহযোগিতায় পদের সাময়িক দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন, ‘বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থায়ও সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ফলে প্রধানমন্ত্রী সমর্থন দিলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে ড. কে. আব্দুল মোমেনের পদ সাময়িক পরিবর্তন হলেও তা কেটে যাবে।’

এ দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে নিয়ে এখনো বেশ ধোয়াসা চলছে দলের মধ্যেই। বিশেষ করে দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা আমাকে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব কী হবে, তা এখনো তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments