Tuesday, January 31, 2023
বাড়িopinion১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটে গেলো রাষ্ট্রদূতের সাথে, এই ঘটনা বিশ্বে...

১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটে গেলো রাষ্ট্রদূতের সাথে, এই ঘটনা বিশ্বে কোথাও ঘটেছে কি না সন্দেহ :শামসুল

Ads

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস এর সাথে ঘটে গিয়েছে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। মূলত রাষ্ট্রদূত তার দূতাবাসের কিছু কর্মকর্তাদের নিয়ে গুম হওয়া এক ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কিছু উশৃঙ্খল লোক রাষ্ট্রদূতের গাড়ির সামনে এসে হৈ চৈ করে। এর পর থেকে রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক শামসুল আলম। নিচে সেটি তুলে ধরা হল

১৪ ডিসেম্বর ২০২২, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটে গেলো, এমন ঘটনা এই বিশ্বে কোথাও ঘটেছে কি না সন্দেহ! ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস তাঁর দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সহ গিয়েছিলেন রাজধানীর শাহীনবাগে এক গুম হওয়া ভিক্টিমের বাড়িতে, যে বাড়ির এক বাসিন্দাকে ৯ বছর আগে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুম করে। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার নিয়ে সর্বদাই সোচ্চার, এবং রাষ্ট্রদূত তার অফিশিয়াল কাজেই ছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরে ঘরের বাইরে সরকারের আজ্ঞাবহু একটি ভুয়া সংগঠনের কিছু উশৃঙ্খল লোক রাষ্ট্রদূতের গাড়ির সামনে এসে হৈ চৈ করে, যদিও স্থানীয় পুলিশের একটি টিম সেখানে উপস্থিত ছিল।

 

রাষ্ট্রদূতকে তার নিরাপত্তা রক্ষীরা দ্রুত শেষ করে স্থান ত্যাগ করতে পরামর্শ দেয়। কেননা সেখানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রদূত কাজ শেষ না করেই দ্রুত চলে আসেন, এবং তখন তাকে গাড়িতে উঠতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, কারণ বহিরাগত লোকগুলি তাকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রদূতকে তার নিরাপত্তারক্ষীরা নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপরে রাষ্ট্রদূত সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুল মোমেনের অফিসে গিয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও নিরাপত্তা ইস্যুটি অবহিত করে প্রতিকার চান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখা যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে হাস্যরসাত্মক কথাবার্তা বলছেন! তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রদূত ঐ বাড়িতে যাবে সেটা বাইরের লোক জানলো কি করে? নিশ্চয় আমেরিকান দূতাবাস থেকে কেউ তথ্যটি লিক করে দিয়েছে।

কিন্তু ঘটনার অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত শাহিনবাগের ঐ বাড়িতে যাবেন, বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ দু’দিন দিন আগে থেকেই অবহিত ছিল, এবং স্থানীয় থানার পুলিশ দু’দিন ধরে নিরাপত্তার তদারকি করে আসছিল। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, সরকারী দলের সমর্থিত যে ভুয়া সংগঠনটি ওখানে গিয়ে ঝামেলা করেছে, তাদেরকে সরকারের লোকরাই পাঠিয়েছিল, কেননা যেখানে তথ্য সংগ্রহে রাষ্ট্রদূত গিয়েছেন, ঐ গুমের ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী ঘটিয়েছিল (enforced diappearence), তাই রাষ্ট্রদূতকে তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদানের লক্ষে সরকারই এই নোংরা পদ্ধতিতে বাধা প্রদান করে। উল্টো, বাংলাদেশে ফরেন মিনিস্টার মোমেন তা গিয়ে হাস্যরস করে। পরবর্তীতে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে একাধিক মন্ত্রী, নেতা, ও দালাল পেশাজীবিরা মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কঠোর সমালোচনায় লিপ্ত হন। দেশটি নিয়ে অবমাননাকর কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন, এবং তা ফলাও করে মিডিয়াতে প্রকাশ করছেন। এ থেকে বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি যে, রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ জড়িত।

গোটা ঘটনাটি বাংলাদেশের সিনেমায় দেখানো ভিলেন চরিত্রকে মনে করিয়ে দেয়, যেখানে ভিলেন একদিকে লোক দিয়ে হামলা করে, পরে আবার সেখানে নিজে উপস্থিত হয়ে সান্তনা দেয়, টাকা পয়সা দিয়ে মহানুভব সাজে। তবে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে যে অপ্রীতিকর ও অবমাননাকর ঘটনা ঘটেছে,এক্ষেত্রে সান্তনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বদলে উল্টো সরকারের দয়িত্বশীলদের হাস্যরস এবং বিশ্ব পরাশক্তিতে ব্যঙ্গ করা, অপমান অপদস্ত করে দয়িত্বজ্ঞানহীন বিকৃতরুচির পরিচয় দিচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের এসব কূটচাল এবং অপকান্ড যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর বেশ ভালোই অনুধাবন করতে পেরেছে। একই সাথে উঠে এসেছে, চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় একই সরকারের লোকেরা গাড়িতে আক্রমন করে ভেঙে দেয়, এবং নিরাপত্তারক্ষীদের আহত করে, সুযোগ দেয়া বলেও বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ সরকার ঐ ঘটনার কোনো বিচার অদ্যাবধি করেনি। উল্টো বর্তমান রাষ্ট্রদূত মিস্টার হাসকেও দ্বিতীয়বার আক্রমন করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।

 

ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র, এ বিষয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।জানা গেছে, বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের সরকারের বরাবরই নানাবিধ অপকর্ম করেও তাদের মুরব্বী প্রতিবেশি ভারতের শক্তিতে পার পেয়ে যায়। কিন্তু জানা গেছে, দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে আক্রমন করেও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মিথ্যাচার করা এবং বানোয়াটভাবে জনমনে ঘৃণা সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ সরকার (এটি একটি হেইট ক্রাইম)।
এমতাবস্থায়, জাতীয় নিরাপত্তা থেকে কঠোর ব্যবস্খা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তেমনটি ঘটলে বাংলাদেশের অবৈধ দখলদরের যে কী চরম পরিণতি হবে, ভাবতেই রীতিমত গা শিউরে ওঠে।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments