Monday, January 30, 2023
বাড়িpoliticsহটাৎ প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিএনপি

হটাৎ প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিএনপি

Ads

সারা দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের সমাবেশ করছে বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যে তারা সমাবেশ করেছে এবং আসন্ন আরো কয়েকটি বিভাগে তারা সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে তবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে উঠেছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

হেফাজতের মতো বিএনপিকে দমন করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে বিরোধী দলের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ইচ্ছাকৃত হুমকি বলে মনে করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। মঙ্গলবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় উপস্থিত নেতাদের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে বাধা দেওয়া হবে না। তবে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে বিএনপিকেও সেইভাবে দমন করা হবে যেভাবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে ২০১৩ সালের ৫ মে দমন করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শঙ্কিত বিএনপি
গত শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে যে, এই নিপীড়ক স্বৈরাচারী, স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে হেফাজত ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৫ মে ২০১৩ সালের অসংখ্য উলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসার কিশোর ছাত্রদের হত্যা করেছে এবং তাদের অনেককে এখনো কারাগারে আটকে রেখেছে দিয়েছে অসংখ্য হয়রানিমূলক আটক মামলা।

তিনি বলেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তাদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এর আগেও বিএনপি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের কারণে দেশে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের বৈধ কর্মসূচি নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র বলে প্রতীয়মান হয়।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে হেফাজেত ইসলাম নামের একটি ধর্মীয় সংগঠন। ওই রাতেই র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি অভিযান চালায়। সেই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

তবে পরে এসব গুজবের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অধিকার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা ৬২ জনের মৃত্যুর খবর দিলেও এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। ওই তালিকায় মৃতদের মধ্যে অনেককে জীবিত পাওয়া যায় এবং হেফাজতের পক্ষ থেকেও কোনো তালিকা দেওয়া হয়নি। ওই রাতে গণহত্যার অভিযোগ নেই হেফাজতে ইসলামের।

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি এর আগেও হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং আবারও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে।

জনগণের সকল সাংবিধানিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত না করার জন্য এই অনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহবান জানান সংসদ। অন্যথায় সব দায় সরকারকেই নিতে হবে।

বৈঠকে অভিযোগ করা হয়, সরকার বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বাধা দিচ্ছে। সমাবেশের দুই দিন আগে বাস মালিক-শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘট জনজীবনে অসহনীয় দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে।

সরকার সমাবেশকে দমন করতে এই অনৈতিক ও অসাংবিধানিক পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, এটা মানবাধিকার ও সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সারা বিশ্বে দুর্ভিক্ষ আসতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া হুঁশিয়ারির কথাও বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর দুর্ভিক্ষ হতে পারে’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মনে করা হয়, এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সরকার জরুরি খাদ্য মজুদ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে, গত চার মাসে খাদ্যশস্য আমদানি প্রায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। এটা উদ্বেগজনক।’

তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তরের নজিরবিহীন দুর্নীতি, উদাসীনতা ও অযোগ্যতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির কারণে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যয় ডলার-সঙ্কটে আমদানির এলসি খুলতে না পেরে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।

রিজার্ভ থেকে অনৈতিকভাবে ডলার অপসারণ, বিদেশ থেকে প্রতি বছর ৭-৮ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করে প্রবাসীদের আয় এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা দাবি করেন, সার, বীজের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও ডিজেলের অভাবে সারাদেশে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সরকারকে দায়ী করে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

বিদ্যুতের অভাবে ৩৮.৭২ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, “সংসদ মনে করে, দুর্নীতি, অক্ষমতা ও অব্যবস্থাপনা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে।” সরকারি হাসপাতালগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক কালের বিএনপির আন্দোলন বেশ চাঙ্গা হয়েছে এবং দেখা গিয়েছে দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ব্যাপক হরে বেড়েছে তবে বিএনপির সমাবেশগুলোতে সরকার নানা বাধা দিচ্ছে বলে তারা প্রায় সময় অভিযোগ করছেন বিশেষ করে পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments