Sunday, February 5, 2023
বাড়িopinionবিএনপিকে বিপদে ফেলেছে দুজন মানুষ ও একটি পত্রিকা : তুহিন

বিএনপিকে বিপদে ফেলেছে দুজন মানুষ ও একটি পত্রিকা : তুহিন

Ads

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি,দুইবারের মত তারা ক্ষমতার আসনে বসতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং দেশ পরিচালনা করেছিলেন কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই দলটি ক্ষমতার বাইরে থাকার কারনে দলের বেশ প্রতিকূলতা লক্ষণীয় এছাড়াও বিভিন্ন কারনে চাপ এ পরে বিএনপিকে এই অবস্থা তৈরী হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কলামিস্ট আরিফুজ্জামান তুহিন। নিচে তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য –

বিএনপিকে বিপদে ফেলেছে দুজন মানুষ ও একটি পত্রিকা। আমার দেশ পত্রিকায় যা ছাপা হয়েছে সেটা মেইনস্ট্রিম পত্রিকায় কোনকালে ছাপা হয় না-এমন কন্টেন্ট। সেখানে ফরহাদ মজহার ফ্যাসিবাদের উত্থান দেখেছেন শাহবাগে।এরপর শাপলাচত্বরের উত্থান। সেখানে ফরহাদ মজহার সহ অনেকেই গেছেন। বিএনপির ফখরুল ইসলাম তখন বিএনপি অফিসে ঘনিষ্ট একজনকে বলেছিলেন (শোনা কথা), সরকার কি আজই পড়ে যাবে? অর্থাৎ বিএনপি বিশ্বাস করেছিল হেফাজত আসলে সরকার বিরোধী শক্তি। তখন জাতীয় নির্বাচনের বাকি ছিল মাত্র ৭ মাস। এই সাত মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিশেষত তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন করা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ৭ মাস গোটা দেশ আস্তিক ও নাস্তিকে ভাগ হয়ে নাস্তিকরা কোপ খাইয়ে মরতে শুরু করল। এইযে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে কুপিয়ে মানুষ মারা এটা কিন্তু ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ বলে কখনো ফরহাদ মজহার, মাহমুদুর রহমান ও তার লোকেরা বলেনি। আজ বিএনপি যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা চায়, কথিত নাস্তিকতার নামে যে মানুষগুলো খুন হলেন তারাও কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই খুন হয়েছিলেন। বিএনপি একটি ক্ষেত্রেও একটা দায়সারা গোছেরও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানায়নি।

যা হোক, এরপর নির্বাচন যখন ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারিতে এলো তখন রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় নেই। বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে পারল না। তো, লীগ আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠল।
এখন লীগ বিরোধী ও তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে মুখ সরিয়ে কারা বিএনপিকে আস্তিক নাস্তিক আন্দোলন দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখানোর তত্ব দিলেন? বিএনপি মুখে না বলেও পরিষ্কার করে সেই শক্তিকে চিহ্নিত করেছে বলেই আমার মনে হয়। মাহমুদুর রহমান বিএনপির মহাসচিব হয়নি, হবার চান্সও নেই।

আজ যারা শাহবাগকে ফ্যাসিবাদের দাইমা বলছে তারা মূলত ফ্যাসিবাদের বিটিম। তারাই মূল রাজনীতিকে আড়াল করতে এইসব বাতেলা মারছে। এই পক্ষটিকে দেখবেন দেশে যে রাজনীতি নেই, যে রাজনীতিতে মানুষের মুক্তিও নেই-যে রাজনীতি মোদি-বিজেপি চায় সেই কথিত হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে কাল্পনিক যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করা হয় প্রতিনিয়ত। এই ধারার বক্তা, ফেইসবুকাররা ক্রমাগতভাবে হিন্দুদের ডিমেইন করেন। তারণ এটা বিজেপি চায়। এখানে যে হিন্দুরা ভাল নেই সেটাই ভারতে বিজেপি প্রচার করতে চায়। এই রিভার্স রাজনীতি বোঝা কিছুটা মাথার ব্যাপার। একটা বড় সংখ্যাক ’মুসলমান’ এই হিন্দু বিরোধী প্রচার শুনে তালি বাজাচ্ছে। অথচ তাদের থাকার কথা ছিল ভোট ও গণতন্ত্র নিয়ে মাঠে।

এই আইডেন্টিটির ন্যারেটিভ যারা প্রচার করছে তারা ব্যক্তিগত জীবনে সবাই কট্টোর ’নাস্তিক’। এই উগ্র নাস্তিকরাই আবার ইসলামের সেবক হয়েছেন। এর থেকে প্যাথেটিক আর হতে পারে না। এর চেয়ে ভন্ডামি দুনিয়াতে আর নেইও।
ঢাকার খোজ খবর করা সাংবাদিকরা জানেন, দুই আন্দোলনে এজেন্সির প্রভাব কতটা ছিল। হেফাজত কার কার সাথে বৈঠক করেছে তার সব ফুটপ্রিন্ট আছে। শাহবাগেরও ফুটপ্রিন্ট আছে। কোথাও বিপ্লব হয়নি এটা অবশ্য পরিষ্কার।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments