Sunday, February 5, 2023
বাড়িpoliticsআ,লীগ কথা রাখেনি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, আপনাকে মন্ত্রী বানাব, নির্বাচন কইরেন না:...

আ,লীগ কথা রাখেনি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, আপনাকে মন্ত্রী বানাব, নির্বাচন কইরেন না: দিলীপ বড়ুয়া

Ads

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরী হয়েছে। এবং সেই সাথে দেখা যায় এখন থেকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে। এদিকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্লোগান দিয়ে কোনোভাবেই নির্বাচন হতে পারে না।

নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই মিত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী এককভাবে এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে চান। তিনি প্রশাসনের উপর নির্ভর করে সব সংকট মোকাবেলা করতে চান। দেশের জনগণ ও রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অনুপস্থিত। আপনি কী আশা করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, আমরা নির্বাচনের পক্ষে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে।

আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেন ১৪ দলের মনোনয়ন পাননি- বিবিসি তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আমার নির্বাচনী এলাকায় (চট্টগ্রাম-১, মিরসরাই) আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে বললেন, আমি তোমাকে মন্ত্রী করব, নির্বাচন করবেন না। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হলে শিল্পমন্ত্রী হন দিলীপ বড়ুয়া।

মন্ত্রী না হয়ে এমপি হলে আপনার দলের আরও উন্নয়ন হতো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, এটা আপেক্ষিক বিষয়। এটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, আমি কোন কৌশল ব্যবহার করছি। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কথা রাখেনি। ১৪ দল যখন গঠিত হয়, তখন ছিল আন্দোলন, নির্বাচন ও একসঙ্গে সরকার গঠনের কথা। আওয়ামী লীগ প্রথমে আমাদের সরকার নিয়েছে, দ্বিতীয়বার জোট থেকে কাউকে নিয়েছে। কিন্তু পরের বার (বর্তমান মেয়াদে) তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্পূর্ণ একা গেলেন। সে আমাদের পথে ছেড়ে দিল। সরকারের অনেক অঙ্গ রয়েছে, কোথাও জড়িত নয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় তিনি কি ভেবেছিলেন এই সরকার এতদিন ক্ষমতায় থাকবে? তিনি বললেন, না, আমি তা ভাবিনি। এটা অন্তত দুই পদের জন্য হবে, আমি ভেবেছিলাম. আমাদের সরকার ব্যবস্থা জনমুখী নয়। কিন্তু আপনি যদি এই সরকার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে থাকেন তবে আপনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অন্ধকার গলিতে ঠেলে দেবেন। এখন আমাদের রাজনীতি এমন হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভরসা রাখছেন না। প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও তার বিশেষজ্ঞদের ওপর ভরসা করছেন তিনি। এমনকি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও যথাযথ কার্যক্রম নেই।

১৪ দলের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, আওয়ামী লীগ হয়তো আমাদের নিয়ে ভাবছে- আর কোথায় যাবে, আমাদের সঙ্গেই থাকবে। কিন্তু আমাদের পর্যবেক্ষণ হল ১৪ দলের যৌবন শেষ, ১৪ দল বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে, এটা নিশ্চিত যে কোনো না কোনো সময় মারা যাবে। তাহলে আপনি বা আপনার দল আওয়ামী লীগ ছাড়বেন- বিবিসির এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অপেক্ষা করছি। একটা সময় আসবে, সেটা নির্বাচনের আগে হোক বা পরে। আমরা সবকিছু পুনর্মূল্যায়ন করব। প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকব, না হলে থাকব না। আওয়ামী লীগ ছাড়তে পারবেন কিনা জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই পারব। কেন পারে না
আপনার দলের মতো জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মতো আরও ১৪টি দল আছে, তারাও কি হতাশ?

প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, পরিস্থিতি এমনই হবে, এটা নিশ্চিত। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর চেয়ে একটু ভালো। যারা বঙ্গবন্ধুর সাথে যুদ্ধ করেছে; বঙ্গবন্ধু ন্যাপ, সিপিবিকে বলেছিলেন সাইনবোর্ড পরিবর্তন করতে। কিন্তু কোথায় তখন তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন।

১৪টি দল একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের কথা বলছে। তা না হলে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেতাম না। তা না হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারত না। ১৪ দল না থাকলে আওয়ামী লীগ এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারত না, সম্ভবও নয়।

আওয়ামী লীগ আপনাকে এমপি-মন্ত্রী করেছে, সুযোগ দিয়েছে, সেজন্য আপনার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কৃতজ্ঞতা আমাদের প্রতিও থাকা উচিত। ১৪ দল ছাড়া তারা ক্ষমতায় আসতে পারত না। এটা ভদ্রলোকের চুক্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া। তুমি আমাকে ছাড় দাও, আমি তোমাকে ছাড় দেব। তিনি সেখানে তিনবার আছেন। আমাদের তখন বলা হয়নি যে আমাদের একবার বা দুবার নেওয়া হবে।

বিবিসি আবারও মন্ত্রী-এমপি হতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি আশা করি না। সেই বাস্তবতা ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই আপনাদের সঙ্গে বসবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো ধরনের কথাবার্তা হতে পারে। সেটাও দায়সারা গ্রুপের হবে। তাছাড়া নির্বাচন হবে কি হবে না সেটাও একটা বিষয়।

উল্লেখ্য, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার এর ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি এর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব একসময় দেখিয়েছেন এবং সক্রিয়ভাববে দলকে ক্ষমতায় আন্তে ভূমিকা রেখেছেন এমনটা তারা বলছেন।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments