Tuesday, January 31, 2023
বাড়িEntertainmentভাইরাল সেই রিকশাচালক শামীম ‘খুনি’, গ্রামে আছে ডুপ্লেক্স বাড়ি-পাকা মার্কেট

ভাইরাল সেই রিকশাচালক শামীম ‘খুনি’, গ্রামে আছে ডুপ্লেক্স বাড়ি-পাকা মার্কেট

Ads

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়ে গেছে আর ওই ভিডিও দেখার পর থেকে মানুষ নানা প্রতিক্রিয়া জ্ঞাপন করছে, মূলত রাজধানীর কাওরানবাজারে ভাড়া করা রিকশা চুরির ঘটনায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলেন ওই রিক্সার চালক শামীম নামের এক যুবক।তবে তার স্মার্ট কথাবার্তা চাল চলন দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি রিক্সাচালক।

কিন্তু তার কান্না পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনকি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিকও সে দৃশ্য এড়িয়ে যাননি। সংবাদটি জনপ্রিয় টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার পর তা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, মায়ের অসুস্থতা, অল্প বয়সে বাবাকে হারানো এবং শিক্ষিত আধুনিক যুবক হয়েও মাস্ক পরে রিকশা চালিয়ে মায়ের চিকিৎসা করা যুবকের মায়ায় দেশবাসী বিমোহিত। . প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পপতি এমনকি গরিবরাও তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।

কেউ তার ভালো চাকরি, পড়া লেখার দায়িত্ব নিশ্চিত করে, কেউ আবার হারানো রিকশা কিনতে চায়। মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন কেউ। এমনকি অনেক তরুণী বিয়ের প্রস্তাবও দেন, ডাক্তাররা নিজেরাই করতে চান। রিকশা হারানোর মতো নয়, শামীমের হাতে আলাদিনের চেরাগ ধরার মতো।

কিন্তু কে এই শামীম? তার পরিচয় কি?
জানা গেছে, শামীমের আসল নাম মেহেদী হাসান, তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রোহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামে। তার বাবা মোতাহার হোসেন ২০১৬ সালে তার নাতি আবদুল্লাহকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। তিনি র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যান। একই মামলায় শামীম ওরফে মেহেদিও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

রিকশা হারানোর পর শামীমের কান্না দেশের লাখো মানুষের হৃদয়ে দাগ রেখে গেলেও ব্যতিক্রম ছিল তার নিজ গ্রাম কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের গ্রামের মুগারচরের মানুষ। তারা অভিযোগ করেছে যে টিভিতে ভাইরাল হওয়া একটি কৌশল। মিথ্যাচার করে দেশবাসীকে ঠকিয়েছেন। গ্রামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও তিনি নিজেকে রিকশাচালক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি তার মায়ের সম্পর্কেও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। নিজে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়ে, মিডিয়ার সাথে কথা বলতে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সাহায্য চেয়েছিলেন, তার সম্পদের কোন অভাব নেই।

তারা বলে যে শামীম (মেহেদী) এবং তার পরিবারের সদস্যরা ২০১৬ সালে শিশু আবদুল্লাহকে হত্যা করে এবং তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাকে একটি ড্রামে আটকে রাখে। ওই ঘটনায় তার বাবা মোতাহার র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যান। এ ছাড়া ওই মামলায় একজনের ফাঁসি, অন্য আসামিসহ মেহেদীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বয়সের কারণে জেল থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সে এলাকায় মাদক চোরাচালান ও চুরির দল তৈরি করে। একপর্যায়ে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হলে তিনি শহরে পালিয়ে নতুন নাটকের মূকনাট্য এঁকেছেন। এখন তিনি ডোনেশন নামে নতুন ব্যবসা চালাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন ও আব্দুল্লাহর স্বজনদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি তদন্ত ছাড়াই খুনিকে সহায়তা করছে।

মেহেদী হাসান শামীম ও তার পরিবারকে যে সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে, তা তাদের বর্বরতার শিকার আব্দুল্লাহর পরিবারকে দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তারা।

নিহত আব্দুল্লাহর মা রিনা বেগম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনসহ দেশের মানুষ আমার ছেলের খুনিকে নানাভাবে সাহায্য করছে। একজন খুনি দেশের মানুষের কাছে প্রশংসিত। তবে তিনি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক। মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে ঠকিয়েছেন। মানুষের সহানুভূতি পেতে নাটকীয়তা। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করতে চাই। শুধু ১০ বছরের সাজা কার্যকর নয়, এই প্রতারকের ফাঁসিও চাই।

প্রতিবেশী মুকবুল হোসেন জানান, গ্রামে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, পাশেই একটি পাকা বাজার, এছাড়াও মাঠে রয়েছে বাবা ও দাদার রেখে যাওয়া অনেক সম্পদ। কিন্তু তিনি রিকশা চালান! এটা তার প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশের মানুষ অজান্তেই একজন খুনির প্রতি সহানুভূতিশীল। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলগা, মানুষকে প্রতারণা করছে, আইনকে থাম্বস আপ দিচ্ছে এবং আব্দুল্লাহর পরিবার দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে।

আব্দুল্লাহর নানী রাবিয়া বেগম বলেন, একজন খুনিকে নিয়ে দেশের মানুষ পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু সে আমার প্রিয় নাতি আবদুল্লাহকে হত্যা করে আমাদের পাগল করে দিচ্ছে। আমি মেহেদী (শামীম) এবং পুরো পরিবারের ফাঁসি চাই। ওরা সবাই আমার নাতিকে মেরে ড্রামে ভরে দিয়েছে, আমিও তাদের মৃত্যু দেখতে চাই।

এদিকে রাজধানী ঢাকায় রিকশা হারিয়ে ভাইরাল হওয়া সেই শামীমের প্রসঙ্গে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও দেখেছি। জানতে পেরেছি ওই যুবক খুনের আসামি, জামিনে আসার পর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ করে শহরে আত্মগোপন করে আছে। তার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments