Saturday, February 4, 2023
বাড়িopinionগাইবান্ধায় ভোট বন্ধ নাটক ইভিএমকে জায়েজ করার একটা বাহানা মাত্র : শামসুল

গাইবান্ধায় ভোট বন্ধ নাটক ইভিএমকে জায়েজ করার একটা বাহানা মাত্র : শামসুল

Ads

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধমে ব্যাপক আলোচনা চলছে গাইবান্ধার নির্বাচন নিয়ে।রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ছড়াছড়ি গাইবান্ধার -৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন এবং সিইসি জানিয়েছেন সেখানে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক ও বিশ্লেষক শামসুল আল। নিচে পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল –

এর আগে সিসিটিভিতে অনিয়ম দেখে ১৪৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪টির ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়।
তবে এই নির্বাচন বন্ধ একটি নাটক ছাড়া আর কিছু নয়! সিইসি আউয়াল সাহেব যেন মনে না করেন, এই একটা নির্বাচন বন্ধ করার ঘটনায় ওনার কমিশন গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

কেননা এর আগে ওনারা কুমিল্লায় একই রকম নির্বাচন করেছেন, সেখানেও সরকারী দলের ব্যাপক কাটাকাটি এবং অনিয়ম সত্ত্বেও তিনি ’ইয়েস’ বলেছিলেন। তখন তো এভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ করেননি। তাহলে এখন করলেন কেনো? তার মানে, এটা হলো নতুন খেলা। আর এই নভেল সম্ভবত তেজগাঁয়ের ড্রাম ফ্যাক্টরিতে লেখা, আউয়াল সাহেব মঞ্চায়ন করেছেন মাত্র!

যেহেতু গাইবান্ধার এই উপ-নির্বাচনটি ওনাদের ঢাকঢোল পিটানো ইভিএমে করতে চেয়েছেন, সিসিটিভিতে অনিয়ম দেখে বাতিল করেছেন, এখন বলা হবে- ইভিএম ঠিক আছে, কেবল গন্ডগোল মানুষে বা ভোটের পরিবেশে। এটা ইভিএমকে জায়েজ করার একটা বাহানা মাত্র!

অন্যদিকে, ক’দিন আগে ইসি আনিছুর রহমানের সাথে ডিসি/এসপিদের দ্বন্দ্ব এবং অনাস্থা যখন প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন ইলেকশন কমিশনের মানইজ্জত এবং গ্রহণযোগ্যতা ভুলুন্ঠিত হয়ে গেছে। এমনক ইসি আনিছ অফিস করছেন না, কারো ফোন ধরছেন না। তার পদত্যাগ করাই মুখরক্ষার একমাত্র বিকল্প। এ অবস্থায় গাইবান্ধায় নাটক মঞ্চায়ন করে আউয়াল কমিশন তার ভাবমুর্তি ফেরাতে চাইছে। কিন্তু এতে কি আর তা হবে, কেননা এদেশে মানুষ এক দশক ধরে দলীয় নির্বাচন কমিশনের কারসাজি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এই সময়ের নতুন প্রজন্ম তো জানেই না ভোট কী জিনিস!

বাস্তব কথা হলো, সাড়ে তের বছর ধরে দেশের প্রশাসন পুলিশ থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমুহ দলীয়করণ করা হয়েছে। তাই এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশনই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। আওয়ামী গুন্ডারা ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট দিবে, পুলিশ তাদের সহায়তা করবে, আর ইভিএম হলে তো এক টিপে অনেক ভোটই দেয়া সম্ভব- এভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এই নির্বাচন কমিশন যখন একটা আসনেই উপনির্বাচন করতে ব্যর্থ্ হয়েছেন, সেখানে ৩০০ আসনে সিসিটিভি দেখে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন মনিটর করা অসম্ভব ব্যাপার। আর প্রশাসন এবং পুলিশ যতক্ষণ পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থানে না নেয়া যাবে, ভোট, ভোটার ও পোলিং এজেন্টের নিরাপত্তা ততক্ষণ পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত নয়। এজন্য দরকার দল নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার।

সিইসি হাবিবুল আউয়াল আজ নিশ্চয় অনুধাবন করেছেন, একটি দলীয় সরকারের আন্ডারে থেকে তাদের নিত্য ফোনের হুকুম হাকাম মেনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা অসম্ভব। তিনি যদি দেশকে সত্যি ভালোবাসেন, তবে যেন কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়- এই বক্তব্য রেখে পুরো কমিশন নিয়ে পদত্যাগ করেন। তাহলে জাতি অন্তত বুঝতে পারবে উনি শেখ হাসিনার গোলাম নন!

Looks like you have blocked notifications!
Ads
[json_importer]
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments